বিশ্বের অতিধনীরা ঝুঁকছেন সিঙ্গাপুরের দিকে

0
24
অতিধনীরা সিঙ্গাপুরে

অনেকদিন যাবত ধনী চীনা, ইন্দোনেশিয়ান ও মালয়েশিয়ানদের ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটার জন্য পছন্দের শীর্ষের দেশ সিঙ্গাপুর। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাসিনোতে খেলতে, অবকাশ যাপনে বা চিকিৎসার জন্য এই দেশটিকে তাঁরা বেছে নিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত ‘মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল’ থেকে বের হলেই গুচি বা রোলেক্সের শোরুম দেখা যায়। এমনকি এই হাসপাতালের লবিতেই গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতের ব্যবস্থাও আছে।

কিন্তু করোনা মহামারী এই দৃশ্য অনেকটা বদলে দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক ধনী ব্যক্তি বর্তমানে বেড়াতে নয়, একেবারে বসবাসের জন্যই সিঙ্গাপুরের দিকে ঝুঁকছেন। করোনা ভয়ালো থাবা থেকে বাঁচতে অনেকে সিঙ্গাপুরে স্থায়ী আবাসনের আবেদন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ‘জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি’ এর তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মৃত্যুর হার সিঙ্গাপুরের চেয়ে ১০% থেকে ৩০% বেশি। করোনা মহামারী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা হংকংকে ব্যাপক হুমকির মুখে ফেলেছে। তাই এই অঞ্চলের অতিধনীরা সিঙ্গাপুরকে বেছে নিচ্ছেন।

২০১৯ সালে ‘সিটি স্টেট’ এলাকায় একক পারিবারিক অফিসের সংখ্যা যা ছিল, বর্তমানে তা প্রায় ২ গুণ হয়েছে। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন সাম্প্রতিককালে চীনা ধনী সু পিংয়ের সঙ্গে মিলে নতুন একটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন। ব্যক্তিগত গলফ ক্লাবের সদস্যপদের জন্য আবেদনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০১৮ সালের তুলনায় জমি ও বসতবাড়ির দাম অনেক বেড়ে গেছে। সেখানে বিভিন্ন বৈশ্বিক ব্যাংকও নতুন নতুন শাখা খুলে ব্যবসা বাড়াচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে বিভিন্ন উন্নত দেশের মতো সিঙ্গাপুরও সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ এর বৈঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কিছু ধনী ব্যক্তির সিঙ্গাপুরে অভিবাসন প্রক্রিয়াও পিছিয়ে গেছে। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধে সিঙ্গাপুর টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। দেশটির কমপক্ষে ৩০% নাগরিক এর মধ্যে টিকার আওতায় এসেছেন, যা প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে বেশি। টিকাদানের ফলে সিঙ্গাপুরে একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নতুন ব্যাংক একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে চীনা গ্রাহকরা এগিয়ে আছেন। এর পরে আছেন যথাক্রমে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার গ্রাহকরা। দুই দশক ধরে হারিশ বাহল নামের এক ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা করছেন। এর আগে তিনি একসাথে এতো ধনী ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে কখনই দেখেন নি। তিনি বলেছেন যে মহামারীর শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিধনীরা সিঙ্গাপুরে বসবাস করতে শুরু করেছেন। এদের মধ্যে চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকই বেশি।

অতিধনীদের জন্য সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ সেখানে আবাসন গড়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সুবিধা দিয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিকরা স্থানীয় ব্যবসায় অন্তত ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার (প্রায় ২১ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা) বিনিয়োগ করলে দ্রুত স্থানীয়ভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন। তবে সেক্ষেত্রে নিজস্ব অফিস ও ২০ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৬৯৫ কোটি টাকা) সম্পদ থাকতে হবে।

সিঙ্গাপুরের ‘ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ লি বলেছেন যে এই নিয়মের কারণে তাঁরা মানসম্পন্ন বিনিয়োগকারী পাচ্ছেন। এই বিনিয়োগকারীরা দেশটির অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। এতে নতুন শিল্প খাত তৈরি হচ্ছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here