‘ইয়ামাহা’ মোটরসাইকেল বিক্রয়ের ব্যাপারে ইভ্যালিকে আইনি নোটিশ

0
42
ইভ্যালি ইয়ামাহা

অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘ইভ্যালি’ কে জাপানের ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের বাংলাদেশী পরিবেশক ‘এসিআই মোটরস’ আইনি নোটিশ দিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, ইভ্যালিতে ইয়ামাহার নাম দিয়ে যেসব মোটরসাইকেল বিক্রয় করা হচ্ছে, তা মোটেও আসল নয়। এতে ইয়ামাহার সুনাম দিনেদিনে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইয়ামাহার একমাত্র পরিবেশক এসিআই মোটরস ১লা এপ্রিল এই আইনি নোটিশ দিয়েছে। এতে ৭ দিনের মধ্যে ইভ্যালিতে ইয়ামাহার ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল বিক্রয় বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে। তা না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য বর্তমানেও ইভ্যালির ওয়েবসাইটে গিয়ে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রয় করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে ইভ্যালির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের বক্তব্যে বলা হয়েছে যে লকডাউনের কারণে খুবই সীমিত পরিসরে সেখানে দাপ্তরিক কাজ চলছে। সেখানে শুধু জরুরি সেবাবিষয়ক কার্যক্রমই পরিচালিত হচ্ছে। এজন্য এমন কোনো নোটিশ তারা পেয়েছেন কি না তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেন নি।

তিনি আরও বলেছেন যে তাঁরা ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্রয় করছেন। তাহলে এসব মোটরসাইকেল নকল হওয়ার কথা নয়। এসিআই মোটরস তাঁদের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হতে চায় নি বলেই এসব পরিবেশকদের মাধ্যমে মোটরসাইকেল নিতে হচ্ছে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে ইয়ামাহার পরিবেশক হয় এসিআই মোটরস। তারা গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানাও তৈরি করেছে। সেখানে ইয়ামাহার মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদন হয়। ইয়ামাহা এই কারখানায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। ১৯৫৫ সালে জাপানে প্রতিষ্ঠিত ইয়ামাহা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের মতো ইয়ামাহার মোটরসাইকেল বিক্রয় হয় এবং এই সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। উকিল নোটিশে এসিআই মোটরস বলেছে যে ২০১৬ সালের ৫ই জুন থেকে তারা ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের একমাত্র পরিবেশক। তখন থেকে একমাত্র তারাই ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আমদানি, সংযোজন, উৎপাদন, বিপণন, মজুতকরণ এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা ও ওয়ারেন্টি সার্ভিস দিচ্ছে। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে এসিআই মোটরসের সঙ্গে ইয়ামাহার কারিগরি সহায়তা চুক্তিও আছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে ইয়ামাহার দেওয়া চিঠি অনুযায়ী এসিআই মোটরসের বাইরে বাংলাদেশে অন্য কেউ ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রয় করতে পারবে না। ইভ্যালির সাথে এসিআই মোটরসের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্কও নেই। তাই ইভ্যালি ইয়ামাহা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের অননুমোদিত সরবরাহকারী হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ইভ্যালি নকল ও নিম্নমানের ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রয় করছে। বলা হচ্ছে যে ইভ্যালি ইয়ামাহা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করেই যাচ্ছে। এটা ইয়ামাহার ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে লাভের উদ্দেশ্যে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করার শামিল। ইভ্যালি নিজেদের লাভের জন্য ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের সুনামকে প্রতিদিন ব্যবহার করছে। অথচ এই সুনাম দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করেছে এসিআই মোটরস। ক্রেতাদের কাছে এরাই এসিআই মোটরসের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে আসছে।

নোটিশে পুরো প্রক্রিয়াটি ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক অ্যাক্টের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে ৭ দিনের মধ্যে ইভ্যালি ইয়ামাহা ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল বিক্রয় করা বন্ধ না করলে তারা দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে।

এ বিষয়ে এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেছেন যে ইভ্যালি আগে এসিআই মোটরসের পরিবেশকদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল সংগ্রহ করতো। ৬ থেকে ৭ মাস আগে তারা সেটি বন্ধ করা হয়েছে। তাই এখন ইভ্যালি যেসব ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রয় করছে সেগুলো অনুমোদিত নয়। ইভ্যালিকে তারা আইনি নোটিশ দিয়েছে। এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here