বিদেশী ঋণের উচ্চ ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ

0
6
বিদেশী ঋণের উচ্চ ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ

যেকোন দেশে যখন রাজস্ব ঘাটতি বাড়ে তখনই ওই দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে  অভ্যন্তরীণ বিদেশী উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতাও বাড়ে। কারণ অর্থনৈতিক ভাবে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদীয়মান অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এসব উৎস থেকে নেয়া স্বল্প দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদিও অতিরিক্ত বিদেশী ঋণনির্ভরতা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা   ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। চলমান করোনা মহামারীতে বাংলাদেশেরও বিদেশী ঋণ নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে ঋণ নেয়ার প্রবণতা বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রক্ষেপণ বলছে, এর ফলে বাংলাদেশের ঋণের উচ্চঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা কম। পড়ুন ঋণের ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ । 

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতায় করোনা কতটুকু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিরূপণের জন্য বাইনারি  রিকারসিভ ট্রি (বিআরটি) মডেল ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতির চারটি বিষয়কে মানদণ্ড ধরে ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্তভিত্তিক এই পরিমাপ করা হয়েছে।

এই পরিমাপের প্রথম ধাপে, জিডিপি অনুপাতে বিদেশী ঋণের পরিমাণকে বিবেচনায় নেয়া হয়। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ধরা হয়েছে ৪৯ দশমিক শতাংশ। এখন তথ্যানুসারে২০১৯ সালে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের  পরিমাণ ছিল ৬০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। আর একই  বছর জিডিপির পরিমাণ  ২০৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। বিআরটি মডেলের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের জিডিপি বিদেশী ঋণের অনুপাত ২৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সীমার বেশ নিচে ছিল অনুপাত। রিজার্ভের বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ অনুপাতের সর্বোচ্চ সীমা দশমিক ৩৪ শতাংশ ধরে বিআরটি মডেলের দ্বিতীয় ধাপটি নির্ধারণ করা হয়। ঋণের ঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ ।

হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে। সময় দেশের স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। হিসাব অনুযায়ী, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনুপাত দাঁড়ায় শূন্য দশমিক শতাংশ। ফলে এটির অবস্থানও নির্ধারিত সীমার মধ্যেই। আর ভবিষ্যতে,২০২৩ সাল নাগাদ অনুপাত আরো কমে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশে দাঁড়াবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

তৃতীয় মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয় রাজস্বের বিপরীতে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণকে। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশে সরকারি খাতে বিদেশী ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক শূন্য বিলিয়ন ডলার। রাজস্ব সরকারি খাতের ঋণের অনুপাত দাঁড়ায় ১৫৭ দশমিক শূন্য শতাংশ, যা মানদণ্ডের সর্বোচ্চ সীমা ২১৫ শতাংশের চেয়ে কম।

চতুর্থ সর্বশেষ ধাপে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দশমিক ৪৫ শতাংশের চেয়ে বেশি কিনা তা দেখা হয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিআরটি মডেল অনুযায়ী, চারটি মানদণ্ডের সার্বিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের অবস্থান নোডতে। এটিকে নিরাপদ বলে ধরা হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্থনীতিতে ধারা চলমান থাকবে বলে প্রক্ষেপণ  করা হয়েছে। যা বাংলাদেশের উঠতি অর্থনীতির জন্য ভালো খবরই বটে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here