দ্রুত চিকিৎসাতে আশঙ্কামুক্ত, হাসপাতালে স্থিতিশীল এরিকসেন

0
22
ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন

এবারে গোটা বিশ্বের বুকে কাঁপুনি ধরে গিয়েছিল উয়েফা ইউরোয় ডেনমার্ক বনাম ফিনল্যান্ড ম্যাচ চলাকালীন সময়ে। ডেনমার্কের সেরা তারকা ও ফুটবলার, ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন ম্যাচ চলাকালীন সময়ে মাঠের মধ্যে আচমকা লুটিয়ে পড়ছেন। গোটা বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল দৃশ্যটি দেখে। সেই মুহূর্তে ডেনমার্কের ফুটবলারদের সাথে প্রতিপক্ষ ফিনল্যান্ডের ফুটবলাররাও আতঙ্কে দিশেহারা।

ড্যানিশ মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন খেলতে খেলতে হঠাৎ করে মাঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় অনেকের মনেই নানা ধরনের আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস থেকে শুরু করে অ্য়াথলেটিক্স সহ গোটা বিশ্বের সমস্ত ক্রীড়ার তারকারা প্রার্থনা করতে শুরু করেছিলেন।

অবশেষে ইউরোপের ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফার কাছ থেকে ইতিবাচক খবর জানা যায়। হাসপাতালে এরিকসেনের জ্ঞান আছে এবং এখন তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন, বলে জানিয়েছে ডেনমার্কের ফুটবল সংস্থা।

ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। তার শ্বাস-প্রশ্বাসও এখন অনেকটা স্বাভাবিক। খবরটি পাওয়ামাত্র সর্বস্তরে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে সকলে। উভয় দলের ফুটবলারদের অনুরোধে শনিবার (১২ই জুন) ইউরো কাপে স্থগিত হয়ে যাওয়া ডেনমার্ক-ফিনল্যান্ড ম্যাচও পুনরায় আরম্ভ করা হয়েছে।

অতি দ্রুত সুচিকিৎসার কারণে জীবনরক্ষা হয়েছে এরিকসেনের, বিষয়টি জানিয়েছে উয়েফা। মাঠে তার চিকিৎসা যেভাবে করা হয়েছিল তা অনবদ্য। এর পাশাপাশি এরিকসেনের সতীর্থরা যে উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন সেটিরও প্রশংসা করা হয়েছে উয়েফার পক্ষ থেকে। তার সতীর্থরা সেখানে মাউথ টু মাউথ অক্সিজেন দিয়েছেন এবং মাঠে চিকিৎসা চলার সময় তাকে ঘিরে একটা বলয় রচনা করেছিলেন। এর সকল কিছুই আসলে তাদের কাজ ও বুদ্ধির প্রশংসার দাবি রাখে।

ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন

শনিবার (১২ই জুন) ডেনমার্কের ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন ইউরো কাপে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন সময় মাঠে জ্ঞানহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেসময় তাকে কেউই ধাক্কা মারেন নি। মূলত নিজে থেকেই পড়ে যান তিনি। রেফারি অ্যান্টনি টেলর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝার সাথে সাথেই খেলা থামিয়ে দেন। তখনই সবাই ছুটে যান এরিকসেনের দিকে। এরপর মাঠেই শুরু হয় তার প্রাথমিক চিকিৎসা। কিছুক্ষণ পরেই এরিকসেনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন অসুস্থ হয়ে পড়ার ঠিক আগে বল কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে মাঠের বাইরে চলে যায়। ম্যাচের তখন ৪২ মিনিট চলে। তখনই থ্রো-ইন থেকে বল রিসিভি করতে দৌড়ে যান তিনি। সেই সময়ই হঠাৎ করে মুখ থুবড়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আর বলটি তার হাঁটুতে লাগে। কয়েক মুহূর্তের জন্য কেউ বুঝতেই পারছিলেন না যে এরিকসেন কেন পড়ে গেলেন। তখন এরিকসেনের খুব কাছেই ছিলেন ফিনল্যান্ডের আরও দুজন ফুটবলার। তাঁরা দ্রুত ইশারা করেন চিকিৎসকদের মাঠে আসার জন্য। ওদিকে তাঁকে উঠতে না দেখে রেফারিও সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের মাঠে ঢোকার জন্য সংকেত দেন। সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নেমে পড়ে মেডিক্যাল দল। ডেনমার্ক দলের সঙ্গে থাকা চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা মাঠে ঢুকে এরিকসেনকে যথাসম্ভব চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে একজন এরিকসেনের বুকে চাপ দিতে থাকেন এবং চেষ্টা করা হয় কৃত্রিম উপায়ে তাঁর শ্বাস প্রশ্বাস ফেরানোর। ততক্ষণে এই ফুটবলারকে চারপাশ থেকে ঘিরে দেওয়াল তৈরি করে দিয়েছেন ডেনমার্কের ফুটবলাররা।

চিকিৎসার মুহূর্তের সেই দৃশ্য স্বাভাবিক নিয়মেই ক্যামেরাতে ধরা হয় নি। এমন অবস্থায় মাঠের দর্শকদের মধ্যেও আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। কী ঘটতে চলেছে তারা ঠিক বুঝতে না পারলেও আতঙ্ক তাঁদের চোখে মুখে স্পষ্ট ছিল। কেউ মুখ ঢেকে রেখেছেন, কেউ কাঁদছেন, কেউ আবার অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। আতঙ্ক দেখা গিয়েছে ডেনমার্কের ফুটবলারদের চোখে মুখেও। তাদের মধ্যে থেকেও কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। এক কথায় মাঠে উপস্থিত সকলের মধ্যেই সৃষ্ট হয়েছিল উৎকণ্ঠার।

মাঠে বেশ কিছুক্ষণ সময় ধরেই এরিকসনের চিকিৎসা চলে। প্রায় ১০ মিনিট চিকিৎসা চলার পর তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ততক্ষণে ধীরে ধীরে মাঠ ছাড়তে শুরু করেছেন ফিনল্যান্ডের ফুটবলাররা। ওদিকে ডেনমার্কের ফুটবলাররা এরিকসেনকে ঘিরেই মাঠ ছাড়েন। এরপরেই এরিকসেনকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে চোখ মেলেছেন তিনি। এতে করেই কিছুটা স্বস্তি ফেরে বিশ্ব ফুটবলে। এরপরেই উয়েফা জানায়, এরিকসেনের অবস্থা স্থিতিশীল।

ওদিকে, এরিকসেনের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হয়ে পড়ায় মাঠে উপস্থিত তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে স্বামীকে নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডের সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন হলেন ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট ও অধিনায়ক হ্যারি কেনের প্রাক্তন সতীর্থ। সেজন্য তার জন্য সকলেই উদ্বিগ্ন। অতএব, এই মুহূর্তে কোচ সাউথগেট, অধিনায়ক কেন কিংবা দলের অন্যান্যরা কেউই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। আর সেই কারণেই তারা বাতিল করে দিয়েছেন সাংবাদিক বৈঠক।

প্রসঙ্গত, গোটা পরিস্থিতি এমন হয় যে, ম্যাচটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। পরবর্তীতে উয়েফা টুইট করে জানিয়ে দেয় যে, “মেডিক্যাল এমার্জেন্সি’র জন্য ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে।” তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বস্তির খবর চলে আসে যে, এরিকসেনের আর কোনও প্রাণ সংশয়ের ভয় নেই। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। এছাড়াও জানা যায়, মেডিক্যাল টিম ও ইউরোর পরিচালকদের তৎপরতায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here