ব্যাংক চেক প্রত্যাখাত হলে কি করা উচিত

0
34
ব্যাংক চেক প্রত্যাখাত হলে কি করা উচিত

ব্যাংকে রাখা টাকা তুলতে হলে গ্রাহককে চেক লিখতে হয়। সেই চেক গ্রাহক বা অন্য কেউ ব্যাংকে দেবার পর ব্যাংক চেকে উল্লিখিত অংকের সমপরিমাণ টাকা নগদ  দেয়। বর্তমানে বহুল প্রচলিত ক্রেডিট কার্ড এবং ক্যাশ কার্ডকেও চেকের একটি বিশেষায়িত রূপ হিসেবে ধরা যায়। পড়ুন চেক প্রত্যাখাত হলে করণীয়

চেক ডিজঅনার হলে করনীয় কি  

চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা একাউন্টে না থাকলে ব্যাংকের পক্ষে টাকা দেয়া সম্ভব হয় না এবং চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়, যা চেক ডিজঅনার হওয়া নামে পরিচিত। ডিজঅনার হওয়া চেকের বাহক একাউন্টধারী নিজে হলে সেটাকে ফৌজধারী অপরাধ হিসেবে ধরা হয় না কিন্ত একাউন্টধারী অন্য কাউকে চেক লিখে দেওয়ার পর যদি সেটি ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয় তাহলে সেটি নেগোশিয়েবল অ্যাক্টের ১৩৮ এবং ১৩৯ নম্বর ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। চেক প্রত্যাখাত হলে করণীয় ।

সাধারণত চেকের মেয়াদ লেখার সময় থেকে ছয় মাস পর্যন্ত  থাকে।  সুতরাং ডিজঅনার হওয়ার ১৫ দিনের মাথায় একাউন্টধারীকে চেক ডিজঅনার হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা প্রদানের দাবি জানাতে হয়। যদি  ত্রিশ দিনের মধ্যে দাবি না জানান হয় তাহলে সেটিকে আইনের দৃষ্টিতে অগ্রাহ্য করা হয় নোটিশ পাওয়ার ত্রিশ দিনের মধ্যে একাউন্টধারীকে টাকা পরিশোধ করা না হলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

 সমন জারি

প্রাপক বরাবর অথবা তার সর্বশেষ বসবাসের ঠিকানা কিংবা তার ব্যবসায়িক ঠিকানা বরাবর প্রাপ্তি স্বীকারপত্রের ব্যবস্থাসহ রেজিস্টার্ড ডাকে নোটিশ পাঠাতে হয়। এর পাশাপাশি  অন্তত একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে নোটিশটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করার ও বিধান রয়েছে।

শাস্তি

কোন ন্যায়সঙ্গত কারণ ব্যাতিত চেক ডিজঅনার হলে বাংলাদেশ এর আইন মোতাবেক তাকে এক বছরের কারাদন্ড সাথে চেকে বর্ণিত অংকের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা ধার্য  করা হতে পারে। অন্যান্য ফৌজদারী মামলায় জরিমানার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়। কিন্তু চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় জরিমানার টাকা চেকের বাহক পান এবং জরিমানার মাধ্যমে চেকের টাকা আদায় না হলে দেওয়ানী মামলাও দায়ের করা যায়।

মামলা করার নিয়ম 

ধরনের মামলা একজনের পক্ষে আরেকজন করতে পারেন না। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চেক দেয়া হয়েছে কেবল তিনিই মামলা করার অধিকার রাখেন। তবে এক্তা বিষয় মনে রাখা দরকার যে মামলার তারিখ এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

সাধারণত চেক ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ পাঠাতে হয়। অতঃপর ১৫ দিন অপেক্ষা শেষে ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়। তবে উল্লেখ্য এই যে, একাউন্টধারী যদি চেকে উল্লিখিত অর্থের নূন্যতম ৫০% পর্যন্ত পরিশোধ করতে সক্ষম হয় তাহলে সংবিধান অনুযায়ী আপীল করার কোন সুযোগ থাকে না

আদালতে মামলা করার নিয়ম 

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করতে হয় তবে বিচার করার ক্ষমতা দায়রা আদালতের। ধরনের মামলা দায়ের করতে যেসব তথ্য প্রয়োজন হয় তার একটি চেকলিস্ট নিচে দেওয়া হল

» চেক প্রদানকারীর নাম 

» চেক লেখার তারিখ;

»  যে তারিখে চেকটি ডিজঅনার হয়েছিল

» ব্যাংক, উল্লেখিত ব্যাংকের শাখা,হিসাব নম্বর, চেক নম্বর টাকার পরিমাণ;

»  চেক যদি কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেয়া হয়ে থাকে তাহলে ইস্যুকারী কর্মকর্তার নাম, পদবী প্রতিষ্ঠানের নাম;

» চেকলেনদেনের তথ্য

»  চেক ডিজঅনার হওয়ার কারণ

» পাশাপাশি নোটিশ পাঠানোর প্রমাণ এবং নোটিশ ফেরত এসে থাকলে ফেরত আসার তারিখসহ অন্যান্য তথ্য।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রমেন্ট অ্যাক্টের অধীনে মামলা দায়ের করতে না পারলে দন্ডবিধির ৪০৬ এবং ৪২০ ধারা অনুসারে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা যায়। তবে এক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। দোষী সাব্যস্ত হলে বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here