জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রির গল্প

0
5
জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি

ষাট এর দশক থেকেই গাড়ি নির্মাণশিল্পে পৃথিবীর অন্যতম জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি। সবসময় গাড়ি তৈরি বিক্রিতে জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি নিজেদের রেখেছে শীর্ষে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গাড়ির ব্র্যান্ডগুলো কিন্তু জাপানের। পুরো পৃথিবীর মানুষই জাপানী গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর সাথে পরিচিত। যেমন : টয়োটা, নিসান, হোন্ডা, মিতসুবিশি, ডাইয়াতসু, সুবারু,ফুসো,হিনো,মাযডা লেক্সাস এবং আরো অনেক। গাড়ি রপ্তানীতেও জাপান শীর্ষস্থানে আছে। পুরো পৃথিবীর ছয়টি মহাদেশের রাস্তাতে জাপানী গাড়ি পাওয়া যায়। আর যাবেই না কেন? জাপানের মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৯% হলো গাড়ি গাড়িসংক্রান্ত জিনিসপত্র উৎপাদন। এতেই বুঝা যায় জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি  কতো বড়ো!! আর বিশাল অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রির কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে আজকে।  

বিশাল কর্মসংস্থান 

৫৫ লাখ লোক (যা জাপানের মোট কর্মক্ষম লোকের প্রায় . শতাংশ) কোন না কোন ভাবে জাপানের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি এর সাথে জড়িত। জাপানে মোট ৭২ টি গাড়ি ফ্যাক্টরি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ২২ টি প্রিফেকচার। যেগুলোতে গাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি গাড়ির পার্টসও তৈরি করা হয়। শুরু থেকেই যতো দিন গেছে বা যাচ্ছে জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি ততোই বড় হচ্ছে আর জাপানী কোম্পানীগুলো ততোবেশী লোকবল বাড়িয়েছে। যার ফলে জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি একটি বিশাল সংখ্যার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

ইন্ডাস্ট্রি ওভারভিউ 

জাপানের গাড়ি ইন্ডাস্ট্রির দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় যে, তাদের নিজের দেশের চেয়ে বাইরের দেশগুলোতে তাদের উৎপাদিত গাড়িগুলোর চাহিদা অনেক বেশী। আর এজন্যই ২০১২ সাল থেকে তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা যতো বেড়েছে তার চেয়ে দেশের বাইরে তাদের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। আর জাপানের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে শুধু গাড়ি নির্মাণই করে না তারা গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাণেও যথেষ্ট মনোযোগী হয়েছে। কারণ একটি গাড়ি তৈরিতে আলাদা আলাদা ভাবে প্রায় ২০০০০ যন্ত্রাংশ লাগে। আর জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি এই যন্ত্রাংশের বাজার ধরেছে বেশ ভালোভাবেই। তারা তাদের  সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যার মধ্যে দিয়ে শুধু গাড়িই নয়, গাড়ির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশও তারা উৎপাদন করবে। ফলে গাড়ি নির্মাণ এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের শিল্পেও জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় হয়েছে। 

গাড়ি কোম্পানি

টয়োটা,নিসান হোন্ডা জাপানের তিনটি বৃহৎ গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান পুরো বিশ্বজুড়েই গাড়ি বিক্রি করে থাকে। তাদের ব্যাপ্তি এতো বেশী যে শুধু জাপান নয় সারাবিশ্ব জুড়েই তাদের হেডকোয়ার্টার রয়েছে এবং তারা সারাবিশ্বের সাথেই একটি সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে। জাপানী গাড়ি কোম্পানীগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা ঐতিহাসিক ভাবেই তাদের সাপ্লাইয়ারদের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক রক্ষা করে। কিছু কিছু কোম্পানী তো অন্যান্য দেশের কোম্পানী গুলোর সাথে সংযুক্ত হয়ে কাজ করে। যেমন ফ্রান্সের কোম্পানী রিন্যাউল্ট এর সাথে নিসান মিতসুবিশি যুক্ত হয়েছে। নিশানরিন্যাঊল্টমিতসুবিশি একসাথে কাজ করে। আবার কিছু কোম্পানি নিজেরাই অন্য জাপানী যন্ত্রাংশ তৈরির কোম্পানীগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে নিজেরাই একটি সাপ্লাই চেইন তৈরি করে থাকে। যেমন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানী টয়োটার সাথে কেইতারুসু নামক কোম্পানী যুক্ত হয়ে একটি সাপ্লাই চেইন তৈরি করেছে। অটো পার্টস সাপ্লাই একটি গাড়ি তৈরিতে যে পরিমাণ যন্ত্রাংশ লাগে তার বেশির ভাগই তৈরি করে আলাদা আলাদা কোম্পানী। কিন্তু জাপানী কোম্পানীগুলো একটি গাড়ি তৈরির সকল যন্ত্রাংশ নিজেরাই তৈরি করে এবং পুরো বিশ্বে তাদের গাড়ি ছাড়াও, গাড়ির যন্ত্রাংশের একটি বিশাল বাজার রয়েছে। 

ভবিষ্যত

জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বের গাড়ির বাজারে রাজত্ব করছে। জাপানী কোম্পানী টয়োটা বর্তমান সময়ে পুরোবিশ্বের গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে এক নম্বরে অবস্থান করছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইলেক্ট্রিক গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ সময়ে বাজারে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই জাপানের অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি ইভি বা ইলেক্ট্রিক ভেহিকেলের দিকে ঝুঁকতে হবে। যার প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here