এবারে টিকা না নিলে বন্ধ হবে ফোন

0
13
টিকা ফোন

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে চলছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ। দেশটির সরকার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধি নিষেধ আরোপের পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। তবে দেশটিতে করোনার টিকা নিতে আগ্রহী নন অনেকেই। এই পরিস্থিতি সামলাতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ কর্তৃপক্ষ টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের শাস্তি হিসেবে তাঁদের মুঠোফোনের সিম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ই জুন) পাঞ্জাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমে পাওয়া খবর থেকে জানা যায়, টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানের ঘোষণা পাকিস্তানে এই প্রথমবার নয়। এর পূর্বে সিন্ধু প্রদেশের সরকার জানায়, সরকারি কর্মকর্তারা টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে জুলাই মাস থেকে তাঁরা বেতন পাবেন না। পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকার করোনার তৃতীয় ঢেউ সামাল দিতে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছেন। এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ হওয়া সত্বেও সেখানে টিকা নেওয়ার হার খুবই কম।

শুক্রবার (১১ই জুন) পাঞ্জাব সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র হামাদ রেজা মুঠোফোন বন্ধের হুমকি নিয়ে বলেছেন, “প্রথমে টিকা নেবার বিষয়টি কেবল একটি প্রস্তাব হিসেবে ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ টিকা নিতে ব্যাপক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। ফলে এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই পদক্ষেপটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রীয় টেলিকম সংস্থা।”

কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ২২ কোটি মানুষের এই দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ কোটি ৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এসকল টিকার বেশির ভাগই এসেছে চীন থেকে।

তিনি বলেন, “দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই। করোনা ভাইরাসের টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বন্ধ্যত্ব বা দুই বছরের মধ্যে মৃত্যু হবে এমন ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে দেশটিতে, যার কারণে মানুষের মধ্যে টিকা গ্রহণে অনীহা দেখা দিয়েছে।”

পাকিস্তানের ইয়াং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সালমান হাসিব পাকিস্তানের গণমাধ্যমকে বলেন, “এদেশে শিক্ষার হার খুবই কম। টিকার বিষয়ে মানুষ ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। ফলে সরকারের নেওয়া সচেতনতামূলক কর্মসূচি এ বিষয়ে রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। প্রত্যেককে টিকাদান নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় গ্রহন করতে হবে।”

‘টিকা না নিলে মুঠোফোন বন্ধ হবে’, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে অনেক পাকিস্তানির মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা গৃহকর্মী সাইমা বিবি বলেছেন, “যদি আমি মুঠোফোন ব্যবহার করতে না পারি তবে আমার জন্য অনেক কষ্ট হবে। কিন্তু কেন জানি আমি টিকার ব্যাপারে খুবই শঙ্কিত।”

রাওয়ালপিন্ডির এক শিক্ষক ফারওয়া হুসেইন টিকা নেওয়ার বিষয়ে বলেছেন, “জোরপূর্বক টিকা নিতে আপনি কাউকে বাধ্য করতে পারেন না।”

পাকিস্তানে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে আরও কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন-

১) যাঁরা টিকা নিয়েছেন তাঁদেরকে সিনেমা হল এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

২) যেসব জেলায় ২০ শতাংশের বেশি মানুষ টিকা নিয়েছে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

৩) এছাড়াও গ্রামাঞ্চলের মানুষদের টিকা দিতে ধর্মীয় স্থানগুলোর বাইরে টিকাদানের ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র খোলা হবে।

পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ৪০ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর মারা গিয়েছে সাড়ে ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে এই দেশটিতে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা খুবই কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here