সংকট নিরসনে তেলের উৎপাদন বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

0
7
যুক্তরাষ্ট্র তেল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন কিছুটা স্থিতিশীল থাকার পর দেশটি পুনরায় উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে করোনা মহামারী এবং সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে তেলযুদ্ধের কারণে দেশটিকে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের লকডাউন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ধীর গতি তেলের বাজারে সংকট তৈরি করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে। তাই গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এই ধরনের সংকট মোকাবেলায় দেশটি চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে (মার্চ-মে) তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে মার্কিন সরকার জ্বালানি তেলের বাজারে কিছুটা নির্ভার থাকতে চাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (ইআইএ) এর সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায় যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন জ্বালানি তেল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ১ কোটি ১১ লক্ষ ব্যারেল। গত বছরের ডিসেম্বরেও একই হারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন করে দেশটি, তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিদিনের জ্বালানি তেল উৎপাদনে ১৭ লক্ষ ব্যারেল পিছিয়ে।

ইআইএর ৩১শে মার্চের মাসিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ প্রতিবেদন বলছে যে দৈনিক গড় উৎপাদন হারে ২০১৯ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটির দৈনিক জ্বালানি তেল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৮ লক্ষ ব্যারেল। তবে এক মাস থেকে অন্য মাসের তুলনায় দেশটিতে এই জ্বালানি পণ্যের উৎপাদন খুব একটা কমে নি। কারণ সংকট কাটিয়ে শিল্পটি এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের বাজারের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। এর পাশাপাশি তেলের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের মাঝামাঝিতে জ্বালানি তেল উৎপাদন বাড়ানোর মতো অবস্থায় উন্নীত হয়েছে।

এদিকে দেশটিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারির পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফের জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন অনেকটা কমে গেছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ টেক্সাস রাজ্যের তেল উৎপাদন ব্যাহত করেছে, যা মার্চের প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট এই স্বল্প সময়ের সংকট বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জ্বালানি পণ্যটির সার্বিক অবস্থা দ্রুত পরিবর্তনের দিকে তাড়িত করেছে। এই সময় জ্বালানি পণ্যটির দামও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করেছে।

আগের সংকটের উপলব্ধি থেকে মার্কিন সরকার এরই মধ্যে জ্বালানি তেল উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। সেই হিসেবে চলতি এপ্রিলে এবং মে মাসেও জ্বালানি তেল উৎপাদন নিশ্চিতভাবেই বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বছরের প্রথম ভাগে কিছুটা ধীরগতিতে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন বাড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে উৎপাদনগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন যে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি তেল উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো উৎপাদনে আবহাওয়াজনিত সমস্যা থাকছে না। ফলে আগের মতো জ্বালানি পণ্যটির দাম হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়ার সে শংকা আর থাকবে না। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রায় জ্বালানি তেল উৎপাদনের ফলে বাজারে তেল সংকটও থাকবে না। দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদন অনেকটাই বাড়বে।

ইআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ২০২১ ও ২০২২ সালের দৈনিক জ্বালানি তেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ব্যারেল পিছিয়ে। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদনগতি বেশ খানিকটা ঊর্ধ্বমুখী। একই সঙ্গে চাহিদার অতিরিক্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন ‘ওপেক প্লাস’ এর সাথে দেশটির প্রতিযোগিতাকে বাড়াবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here