ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন পরীমনি

0
3
পরীমনি ধর্ষণ

ঢাকাই ছবির সুন্দরী ও শীর্ষস্থানীয় নায়িকা পরীমনি অভিযোগ করেছেন যে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

এমন কী ঘটনা সেদিন ঘটেছিল যে চার দিন পরও সদা হাস্যোজ্জ্বল পরীমনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। আর কেনই বা তাকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিচার চাইতে হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে? সেসকল প্রশ্নের উত্তর জানাতেই রাত সাড়ে ১০টায় নিজের বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের ডেকেছিলেন নায়িকা পরীমনি।

পরীমনি গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার (১০ই জুন) রাতে তার পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন তিনি। তখন সময় ছিল রাত ১২টা পেরিয়ে। বন্ধু অমি সেসময় তাদেরকে আশুলিয়ার একটি ক্লাবে সাথে করে নিয়ে যান। সেখানে অমি পরীমনিকে পরিচয় করিয়ে দেন কয়েকজন মদ্যপানরত ব্যক্তির সঙ্গে। মদ্যপায়ী ওই ব্যক্তিদের ভিতর থেকে একজন হঠাৎ করে জোরপূর্বক তাঁর মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরে এবং তার সাথে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরীমনির সঙ্গে থাকা জিমিকে এ সময় অনেক মারধর করা হয়। উক্ত ঘটনায় পরীমনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ওই ব্যক্তির ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তর বক্তব্য না পাওয়ায় প্রমাণ ছাড়া তাঁর নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঘটনার পরপরই অভিযোগ করতে বনানী থানায় গিয়েছিলেন পরীমনি। তার অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা সে সময় অভিযোগ রেকর্ড করেন নি। বরং তারা সকালে এসে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন পরীমনিকে। ওই সময় পরীমনি পুলিশের সাহায্য নিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু আতঙ্কবশত চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। নিজের সাথে এরকম ঘটনা ঘটায় মারাত্মক ভেঙে পড়েছেন পরীমনি। মানসিক ও শারীরিকভাবে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ইতোপূর্বে ‘আমাকে রেপ এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে’ এরকম অভিযোগ তুলে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছিলেন ঢালিউডের আলোচিত সুন্দরী নায়িকা পরীমনি। রবিবার (১৩ই জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিচার দাবি করে নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করে এসকল অভিযোগ করেন তিনি। রাতে নিজের বনানীর বাসায় এই ঢালিউড তারকা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এবং সেখানে ঘটনার প্রকাশযোগ্য বিস্তারিত জানান।

নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি। রেপ এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে আমাকে। আমি এর বিচার চাই। এই বিচার কোথায় চাইব? কে করবে এর সঠিক বিচার?”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মা’ সম্বোধন করে পরীমনি লিখেছেন, “গত চার দিন ধরে থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্র বন্ধুদের কাউকেই পাশে পাচ্ছি না মা। যাদেরকে পেয়েছি তাদের সকলেই বিস্তারিত ঘটনা জেনে ‘দেখছি’ বলে চুপ হয়ে যায়!”

কোনো জায়গায় প্রতিকার না পেয়ে পরীমনি লিখেছেন, “আমি চুপ হয়ে যেতে পারি না। আমার সঙ্গে আজ যা হয়েছে, তা যদি ‘আমি মেয়ে এবং লোকে কী বলবে’ এ ধরনের গিলানো বাক্য নিয়ে ভেবে চুপ হয়ে যাই, তাহলে হয়তো অনেকের মতো আমিও শুধু তাদের দল ভারী করতে চলেছি। আফসোস ছাড়া কারও কিছুই করার থাকবে না তখন। আমি কি তাদের মতো চুপ করে থাকতে পারি, মা? আমি তো আপনাকেও দেখি নি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মাথা পেতে মেনে নিতে।”

শৈশবে মা হারানোর ঘটনা উল্লেখ করে পরীমনি লিখেছেন, “আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন আমার মা যখন মারা যান। এত দিনে একটি মুহূর্তের জন্য আমার কখনো মনে হয় নি যে মাকে আমার খুব দরকার। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে যে আমার মাকে খুব দরকার। একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য মাকে দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। বেঁচে থাকার জন্য আমার এখন আপনাকে দরকার। আমি বাঁচতে চাই মা। তুমি আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।”

ঘটনার বিস্তারিত জানতে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরে স্বজোরে করে কান্নাকাটি করেন। তিনি বলেন, “আমি সবাইকেই ঘটনার বিস্তারিত জানাতে চাই। ইতোমধ্যে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে জানিয়েছি। তারা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সাহায্য করার ব্যাপারে। আমি গত চার দিন ধরে অপেক্ষা করে আছি, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করেতে এগিয়ে আসেন নি।”

এ প্রসঙ্গে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পরীমনি যোগাযোগ করেছিলেন আমার সঙ্গে। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনার সঠিক বিচার আসলেই কাম্য।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here