নতুন বাজেটে মধ্যবিত্তদের হতাশা, খুশি ব্যবসায়ীরা

0
4
জাতীয় বাজেট

দেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গত এক বছর আগে বাজেট বক্তৃতা শেষ করছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি ধারণা করেছিলেন, গোটা পৃথিবীতে খুব শীগ্রই উন্মোচিত হবে এক আলোকিত ভোরের। কিন্তু অবশেষে মানুষের পরিত্রাণ মেলে নি ভয়ানক এই মহামারী থেকে, দেখা মেলে নি আলোকিত ভোরের। দেশের অর্থনীতি এখনো সংকটের মধ্যে রয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও এখনো বিরাজমান। মানুষের আয় কমে গিয়েছে, বেড়েছে বেকারত্বের হার এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দরিদ্র হয়েছে নতুন করে। এত কিছুর পরেও বাংলাদেশের বাজেটে পাওয়া গেল না এর বাস্তবতার প্রতিফলন।

বাংলাদেশে এই ভয়ানক অর্থনৈতিক সংকটময় পরিস্থতিতে একদলের জন্য সুখবর এবং আরেকটি দলের জন্য হতাশার খবর বয়ে এনেছে দেশের অর্থমন্ত্রী। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের নতুন বাজেট প্রস্তাবে আনন্দিত হবেন ব্যবসায়ীরা। এর কারণ, নতুন বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য কমানো হয়েছে করপোরেট করহার, স্থানীয় শিল্পকে দেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা। এছাড়াও কমেছে ব্যবসায়িক টার্নওভার করহার। দেশের অর্থমন্ত্রী নানাভাবেই সুবিধা দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ২০২১-২০২২ অর্থবছরের নতুন বাজেটে কোনো ছাড় নেই বললেই চলে। যে সকল মানুষের আয় কমে গেছে অথবা যারা চাকরি থেকে ছাঁটাই হয়েছেন কিংবা হচ্ছেন তাঁদের জন্য তেমন কিছুই উল্লেখ নেই নতুন বাজেটে। এমনকি নতুন করে যাঁরা দরিদ্র হয়েছেন, তাঁদের বিষয়েও কিছুই বলা হয় নি নতুন বাজেটে। এক কথায়, সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ দেওয়ার মত কোনো বন্দোবস্তই নেই তাদের কাছে। সব মিলিয়ে অর্থমন্ত্রীর নতুন বাজেট প্রস্তাবে হতাশ হতে যাচ্ছেন সব ধরনের মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন।

একভাবে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের- ‘অল্প কিছু আলো থাক, অল্প কিছু ছায়া, আর কিছু মায়া।’- এই লেখনির সাথে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটুকুই মিলে গিয়েছে। অর্থাৎ আলো খুবই অল্প, কিন্তু ছায়া ও মায়া এই দুটোরই যেন অভাব। সুবিধা যা কিছু রয়েছে সবই যেন বড় ব্যবসায়ীদের জন্য, ছোট ও কষ্টে থাকা মানুষেরা জন্য ছায়া বা মায়া কিছুই মেলে নি এই নতুন বাজেট থেকে।

গত বছর যখন অর্থমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন, সে সময়ে কিন্তু করোনার প্রথম ধাক্কা সামাল দেওয়ার আলোচনাই ছিল সর্বত্র। সেই প্রথম ধাক্কা থেকে অর্থনীতি এখনো পরিত্রাণ পায় নি। প্রথম ধাক্কা থেকে উঠে দাঁড়াবার সময়েই চলে এলো করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কা। পুনরায় পাওয়া ধাক্কা সামাল দেওয়ার দুশ্চিন্তা তো আছেই, পাশাপাশি রয়েছে তৃতীয় ধাক্কার আশঙ্কা। এছাড়াও টিকা সংগ্রহের বিষয়টি নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। গোটা বিশ্বই এই দিকে একমত যে, পৃথিবীর থেকে এত শিগগিরই বিদায় নিচ্ছে না করোনা মহামারী। একমাত্র করোনার টিকার সঠিক ও ব্যাপক প্রয়োগের মাধ্যমেই কয়েকটি দেশে সংকট কাটিয়ে উঠা কিছুটা সম্ভব হয়েছে। আর সেই কারণেই হয়তো নতুন বাজেটে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছেন দেশের অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তাঁর দেওয়া লক্ষ্য অনুযায়ী মাসে যদি ২৫ লাখ করে টিকা দেওয়া হয়, তাহলে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে প্রায় এক দশক সময় লেগে যাবে। অতএব বলা যায়, বাস্তবতা ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য।

“জীবন-জীবিকার প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ”- এই শিরোনামটি নতুন অর্থবছরের বাজেটের শিরোনাম দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। উক্ত শিরোনামের অর্থ হচ্ছে, মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি রক্ষা করতে হবে জীবিকাকেও। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে বলতে গেলে, মাসে ২৫ লাখ টিকা দেবার নিশ্চয়তা যেমন নেই, তেমনি জীবিকা বাঁচানোর সরাসরি পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ্য নেই।

নানা ধরনের কর ছাড় পেয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাড়াবেন। এর ফলে বাড়বে বিনিয়োগ এবং বৃদ্ধি পাবে উৎপাদন। সব মিলিয়ে বাড়বে কর্মসংস্থান—দুঃখজনভাবে, আদ্যিকালের সেই উপচে পড়া নীতির ওপরই যেন ভরসা রেখেছেন অর্থমন্ত্রী।

এসবের পাশাপাশি বড় আকারের বাজেট আর বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধির আলোচনার মধ্যেই আটকে থাকলেন অর্থমন্ত্রী। তার বক্তব্যে তিনি ঠিকই ৬ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উচ্চাভিলাষ বজায় রেখেছেন। অথচ এবার সব পক্ষই উদার হস্তে ছাড় দিতে চেয়েছিল অর্থমন্ত্রীকে। এদিকে, বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রী আলোচনা করে নিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সাথে। আলোচনার সময় সবাই তাকে বলেছেন, “এবার আর জিডিপি বা বাজেট ঘাটতির আলোচনার প্রয়োজন নেই; বরং সরকারকে ব্যয় করতে হবে। চাহিদা বৃদ্ধি করতে সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ তুলে দিতে হবে। অতএব বলা যায়, ঘাটতি বাড়লেও সমস্যা হবার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আলোচনার পরেও সে পথে হাঁটলেন না অর্থমন্ত্রী। এদিকে সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ না থাকলে চাহিদা বৃদ্ধিরও কোনো সম্ভাবনা নেই। চাহিদার অভাবে অলস হয়ে থাকবে দেশের অর্থনীতি। সাধারণ মানুষের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার সঠিক পথটাই হয়তো জানা নেই।

বাংলাদেশের করপোরেট করহার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এই হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। যার ফলে পরপর দুই অর্থবছর করপোরেট হার কমালেন অর্থমন্ত্রী। এবার নতুন বাজেটে করপোরেট করহার কমানো হয়েছে আড়াই শতাংশ। সুতরাং এই দুই বছরে করপোরেট কর কমেছে ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে বেশ খানিকটা ছাড় পেতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশের স্থানীয় শিল্পকেও এবার বড় হারে ভ্যাট ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গৃহস্থালি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ভ্যাট ছাড়াও আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দেশে উৎপাদিত মোবাইল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেও দেওয়া হয়েছে নতুন নতুন কর–সুবিধা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে গতানুগতিক ব্যবস্থা থেকে এবার তিনি সরে এসেছেন। সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তিনি বলেছেন স্বাস্থ্য খাতকে। তার বক্তব্যে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে প্রণোদনা তহবিল বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে। তৃতীয়ত খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রীর অগ্রাধিকার পেয়েছে কৃষি খাত। এরপরেই রয়েছে শিক্ষা খাত, দক্ষতা বৃদ্ধি সহ মানবসম্পদ উন্নয়ন। তার পঞ্চম অগ্রাধিকার খাত হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসৃজন। তার বক্তব্যে অগ্রাধিকারের দিকে সবশেষে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ। অথচ খেয়াল করলে দেখা যাবে, অগ্রাধিকারের তালিকা বদল হলেও বরাদ্দের ধরন কিন্তু সেই গতানুগতিকই রয়েছে।

বাংলাদেশে এবারের ৫০তম বাজেট ঘোষিত হয়েছে। আর এই বছরই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর এ কারণেই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশকে। যদিও এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত আলোচনাও করেছেন। তবে তার বক্তব্যে যে বিষয়টি নেই তা হচ্ছে সামনের দিনের সংস্কার নিয়ে আলোচনা। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ দেশের আয় করার সামর্থ্য যেমন কম, তেমনি ব্যয় করার ক্ষমতাও রয়েছে সল্প। বিশেষ করে গুণমান বজায় রেখে ব্যয় করার অক্ষমতা অনেক বেশি প্রকট। অর্থনীতিবিদেরা বলে আসছেন, এই সমস্যার সমাধান না হলে বাজেট বাস্তবায়নের সমস্যা কাটানো সম্ভব নয়।

বাজেট ঘোষণার পূর্বে সামগ্রিক কর ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় রকমের অভিযোগ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে দেশের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছিলেন। এর থেকে উত্তরণের জন্য দরকার ছিল বড় ধরনের সংস্কারের। ফলে প্রণোদনা তহবিল দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাতের সংস্কারের কথা এই অর্থমন্ত্রীই বলেছিলেন। অন্যদিকে কর-জিডিপি নিম্নতম বলে সরকার নিজের অর্থে বড় আকারের প্রণোদনা তহবিলও দিতে পারে নি। সুতরাং বলা যায়, দ্রুত করব্যবস্থার বড় সংস্কার প্রয়োজন।

পুরোনো তথ্য মতে, অর্থমন্ত্রী এর আগেও অনেক কথা বলেছেন। তার সম্পূর্ন বক্তৃতা পড়লে দেশের ইতিহাসে হয়তো দীর্ঘতম বক্তৃতার স্বীকৃতি পেতে পারতেন তিনি। অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, দারিদ্র্য হারসহ অনেক তথ্য-উপাত্তের মধ্যেই সামঞ্জস্য নেই তার বক্তব্যে। পরিষ্কার বক্তব্য নেই বেশ কিছু বিষয়েই। অনেক উপাত্তের হালনাগাদ পরিসংখ্যান নেই প্রস্তাবিত বাজেটে। এছাড়াও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়েও সুস্পষ্ট কোনো ধারণাও নেই। যাঁরা নতুন দরিদ্র অর্থাৎ যাঁরা কাজ হারিয়েছেন তাঁদের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয় নি নতুন বাজেটে।

তিনি যেমনটা শুরুতেই বলেছেন, দেশের বর্তমান দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে দেশে সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ হয়েছে। আর সেই সময় দেশের সার্বিক দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৬ সালের সেই জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সরকারের অনুমিত হিসাবে ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। নতুন করে সেই হিসাবটিই বুঝিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী। অথচ ধারণা করা হয়, করোনায় গত দেড় বছরে দারিদ্র্য হার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। কারও কারও জরিপে সেটি ৪০ শতাংশেরও বেশি। দেখা যাচ্ছে, দুই বছর আগের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাজেট দিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। সুতরাং নতুন দরিদ্ররা বাজেট থেকে কিছুই পেলেন না, এমনকি স্বীকৃতিও নয়।

নতুন বাজেটের হিসাব:

মোট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ঘোষিত হয়েছে এবারের নতুন বাজেট। এর মধ্যে আয় রয়েছে মোট ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। আর বাজেট ঘাটতি রয়েছে মোট ৬ দশমিক ১ শতাংশ। বলা যায়, এই বাজেট ঘাটতির বড় অংশের কারণ হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ যার পরিমাণ মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা।

কিন্তু উদ্বেগের দিক হচ্ছে, সবারই প্রত্যাশা ছিল বিদায়ী অর্থবছরে সরকার অন্তত বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে, ব্যয় হবে সরকারের সকল অর্থ। এর কারণ, দেশের অর্থনীতির উত্তরণের জন্য ব্যয় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বিদায়ী অর্থবছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারছে না বলে বাজেট সংশোধন করতে হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৩রা জুন) দুপুর ৩টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয় বাজেট উপস্থাপন। মহামারী করোনা ভাইরাসকে বিবেচনায় রেখে আগেই সব সাংসদ ও অধিবেশন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছিল। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সব মিলিয়ে মোট ১৭০ জনের মতো সংসদ সদস্য অধিবেশনে যোগ দেন।

টানা এক ঘণ্টার বেশি সময় নিয়ে বাজেট উপস্থাপন করা হলেও অর্থমন্ত্রী খুব কম সময়ই তার লিখিত বক্তব্য পড়েছেন। তার বক্তব্যের বেশির ভাগ সময়জুড়ে ছিল অধিবেশন কক্ষের বড় পর্দায় অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। বাজেট বক্তৃতা শেষ করে অর্থবিল উপস্থাপন করেন তিনি। অধিবেশন শুরুর আগে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে। পরে তাতে সই করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

অবশেষে বলা যায়, বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “দেশের মানুষ হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি।”

আলোচ্য কথার প্রেক্ষিতে বঙ্কিমচন্দ্রের বিষবৃক্ষ থেকে ধার করে বলা যায়, ‘যতদিন মানুষের আশা থাকে, ততদিন কিছুই ফুরায় না; আশা ফুরাইলে সব ফুরাইল।’ কথাটির অর্থ দাঁড়ায় অর্থমন্ত্রীর ‘প্রাণশক্তি’ অর্থাৎ দেশের মানুষ কতটা আশায় থাকবে এবং কতটা বিশ্বাস রাখবে তা সবশেষে এই নতুন বাজেট বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here