নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়ক উন্নত করতে ২২২৮ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার

0
12
নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়ক উন্নত করতে ২২২৮ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার

জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (একনেক) চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে আছে ২২২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ এবং পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দ্বিতল সড়ক নির্মাণ। এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্যে পরিবহন যোগাযোগ জোরদার করা।

মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক একনেক সভা থেকে এ অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকটি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জিইডি) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন যে একনেক সভায় ৩,৯০৩.৩১ কোটি টাকা ব্যয়ের চারটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এখানে দুইটি সংশোধিত প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত আছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যপত্র অনুযায়ী, “সড়ক প্রশস্তকরণ এবং পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দ্বিতল সড়ক নির্মাণ” নামক প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ২২২৭.৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের অপর সদস্য মোঃ মামুন-আল-রশিদ বলেছেন যে যদি এক্সপ্রেসওয়ে (দ্বিতল রাস্তা) নির্মিত হয়, তাহলে ভ্রমণ ব্যয় ৬২ শতাংশ কমে আসবে এবং অপেক্ষার সময় ৭৪ শতাংশ কমে আসবে। যাতায়াতের গড় গতি চার-পাঁচ গুণ বেড়ে যাবে।

প্রকল্পের মূল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪৪.৫ একর জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন, ৭০১১১৪ ঘনমিটার খনন এবং মাটি ভরাট, ১০.৭৫ কিলোমিটারের ফুটপাথ এবং সম্পর্কিত কাজ, ১৪.৭৯ কিলোমিটার সড়ক মধ্যবর্তী আইল্যান্ড নির্মাণ এবং র্যা ম্পসহ ৯.০৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ।

এছাড়াও একনেক “ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন, নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধাসমূহের উন্নতি” শীর্ষক আরেকটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার জন্য ১,৫৭৫.০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। মূল প্রকল্পের কাজগুলোর মধ্যে ৪৭৫ কিলোমিটার রাস্তা, ৩৪৬ কিলোমিটার ড্রেন এবং ১৭ কিলোমিটার ফুটপাথ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংশোধিত প্রকল্পগুলো হলো “কৃষি তথ্য পরিষেবাদি আধুনিকীকরণ এবং ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ” (প্রথম সংশোধিত) যার অতিরিক্ত ব্যয় ৪১.২০ কোটি টাকা এবং “চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা রোডের উন্নতি ও প্রশস্তকরণ” (১ম সংশোধিত) যার অতিরিক্ত ব্যয় ৪৪.৫৭ কোটি টাকা।

কৃষি তথ্য প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৬৮.৭১ কোটি টাকা, যা এখন দাঁড়িয়েছে ১০৯.৯১ কোটি টাকা। প্রকল্পের সময়সীমা ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা রোডের আসল ব্যয় ছিল ১০৪.৭৭ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৯.৩৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের সময়সীমা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ডাঃ শামসুল আলম বলেছেন যে দুইটি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধ এবং এর পরিবর্তে প্রকল্পগুলোকে যথাসময়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের পুনর্বিবেচনার জন্য স্পষ্টতই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

তিনি দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও অনুরোধ করেছেন যেহেতু পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে। তিনি এ অঞ্চলের রাস্তাগুলো মেরামত ও উন্নয়নের কাজ শুরু করার জন্য তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যেহেতু পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পরে সেখানে দৈনিক যাতায়াতের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

ময়মনসিংহ সিটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী নগর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কোনও বড় গাছ কাটা না যায় এবং মাঠগুলো উচ্চ দালানকোঠা নির্মাণ করে ভরে ফেলা না হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here