ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের রেল যোগাযোগের ইতিহাস

0
11
ফরিদপুর গোপালগঞ্জ রেল

প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিল। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার বিধৌত বাংলার মাটি ছিল সম্পূর্ণ ভারতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে উর্বর। এ কারণেই এই দেশের মাটিতে সোনা ফলতো বলা হয়। কিন্তু জালের ন্যায় সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা নদীমাতৃক এই দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। নৌপথকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা যোগাযোগ ব্যবস্থা শুকনো মৌসুমে অনেকটাই ভেঙে পড়তো। তাছাড়া দেশীয় মাঝি-মাল্লাদের ব্যবহৃত নৌকা আকারে খুবই ছোট এবং ধীর গতিসম্পন্ন ছিল। এই অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য ও মালামাল পরিবহনের জন্য এই নৌকাগুলো বলতে গেলে অযোগ্য ছিল।

উপমহাদেশে ব্রিটিশ ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ এর শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ‘রোভার স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি’ বৃহৎ পরিসরে এদেশে স্টিমার সার্ভিস চালু করেছিল। বিরাট আকারের এই স্টিমারগুলো মালামাল এবং যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সেই সময়ে বেশ আধুনিকতা এনে দিয়েছিল। তাছাড়া দেশীয় নৌকা এবং স্টিমারের তুলনায় এগুলোর গতি অনেক বেশি ছিল। তারপরেও বৃহৎ কৃষি পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি যথার্থ ছিল না। তখন আরও বড় এবং দ্রুতগামী যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল।

ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা পণ্য আমদানি ও রপ্তানি – সবক্ষেত্রেই তৎকালীন উপমহাদেশের রাজধানী কোলকাতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিনিয়ত সেখানে যাতায়াত করতে হতো। উৎপাদিত পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে হতো কোলকাতার নদীবন্দর দিয়ে। এছাড়া কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কোলকাতায় হুগলী নদীর পাড়ে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। এই ধরনের কোনো শিল্প কারখানাই তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ছিল না। এই দেশের পাটশিল্প, মৎস্য শিল্প এবং চা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কোলকাতা বন্দর দিয়ে রপ্তানি করা হতো। এই কৃষিপণ্যগুলোই এই দেশে রেলপথ স্থাপনের পথ প্রসারিত করেছিল।

তৎকালীন ফরিদপুর

ফরিদপুর বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। অনেক আগে থেকে এই অঞ্চলের নাম ছিল ‘ফতেহাবাদ’। ১৭৮৬ সালে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই জেলার নাম তখন ‘জালালপুর’ হয়েছিল। এই জেলার প্রধান কার্যালয় ছিল ঢাকাতে। এটিই খুব সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র জেলা, যার প্রধান কার্যালয় জেলা শহরে না হয় ঢাকায় অবস্থিত ছিল। ১৮০৭ সালে এই জেলার কার্যালয় ঢাকা থেকে সরিয়ে ফরিদপুর শহরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সে সময় জালালপুর নাম পরিবর্তন করে জেলার নামকরণ করা হয় ফরিদপুর। প্রখ্যাত সুফী এবং আলেম খাজা মাইনউদ্দিন চিশতী (রহঃ) (আনুমানিক ১১৪৩-১২৩৬) এর শিষ্য শাহ ফরিদ (রহঃ) এর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা হয়েছে। সে সময় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর – এই ৫টি জেলা একসাথে নিয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা গঠিত ছিল।

তৎকালীন ফরিদপুরে প্রচুর পরিমাণে পাট এবং নীল চাষ করা হতো। এই জেলার মাদারীপুর থেকে হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০) এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে দলে দলে নীলকররা আসতে থাকে এবং প্রতিষ্ঠা করতে থাকে অসংখ্য নীলকুঠি নামক টর্চার সেল। সেখানে নির্যাতন করে এই অঞ্চলের মানুষকে নীল চাষ করতে বাধ্য করা হতো । এজন্য এই জেলায় ৫২টি নীল কুঠি স্থাপন করা হয়েছিল এবং এর প্রধান ম্যানেজার ছিলেন ‘ডানলফ’। অন্যান্য জেলার ন্যায় এই জেলাতেও ‘নীল বিদ্রোহ’ এর আগুন জ্বলে উঠেছিল। হাজী শরীয়তুল্লাহের ছেলে দুদু মিয়া (১৮১৯-১৮৬২) এর নেতৃত্বে নীল বিদ্রোহ ইতিহাসের পাতায় আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

একসময় ফরিদপুর বিলপ্রধান জলাভূমি এলাকা ছিল এবং পদ্মার প্লাবনের পলি মাটিতে উর্বর হতো। এ কারণে এই অঞ্চল কৃষি সমৃদ্ধ ছিল। এছাড়া বিল অঞ্চল হওয়াও প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেতো। অর্থনৈতিকভাবেও এই অঞ্চলের মানুষ স্বাবলম্বী ছিল। পৌরসভা শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্রিটিশদের কাছে ফরিদপুর জেলার গুরুত্ব বাড়তে থাকে।

রাজবাড়ী-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেল যোগাযোগ

ফরিদপুর গোপালগঞ্জ রেল

১৮৭১ সালে কুষ্টিয়া জেলার জগতি থেকে রাজবাড়ী জেলার পাচুরিয়া হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করে ব্রিটিশ ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি’। কয়েক বছরের মধ্যেই কোলকাতামুখী যাত্রীদের পদচারণায় গোয়ালন্দ ভারতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দরে পরিণত হয়েছিল। তারপর থেকে এই রেল সেকশনটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। জগতি-গোয়ালন্দ সেকশনের পাচুরিয়া থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে বাংলার অন্যতম প্রাচীন জেলা শহর ফরিদপুরের অবস্থান।

কুমার নদী বিধৌত ফরিদপুর জেলা শহর ১৮৬৯ সালে পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ফলে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের কাছে এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তাই ১৮৭১ সালে যখন পাচুরিয়া হয়ে গোয়ালন্দ ঘাটে রেলপথ নির্মিত হলো, তখন ব্রিটিশরা ফরিদপুরে রেলপথ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ফরিদপুরে রেলপথ নির্মাণের জন্য বাংলা সরকারের কাছে চিঠি ও দরকারী কাগজপত্র আদান-প্রদান শুরু করেছিল। অনুমতি পাওয়ার পরে ভূমি জরিপ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। এই জরিপ কার্যক্রম শেষে সম্ভব্য নির্মাণ খরচ সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণ লাভজনক হবে – এমন প্রত্যাশা রেখে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

১৮৯৫ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে বিল ও জলাভূমিতে এক মহা কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিল। কর্দমাক্ত জলাভূমি হওয়ায় এই অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণ করতে এই কোম্পানিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে শক্ত মাটি নিয়ে আসতে হয়েছিল। তারপরেও দেশীয় শ্রমিকদের সহায়তায় ও কয়েকটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ প্রচেষ্টায় রেলপথের নির্মাণ কাজ চলছিল। অবশেষে ১৮৯৯ সালে রাজবাড়ীর পাচুরিয়া থেকে ফরিদপুর সদর ও জেলার নগরকান্দার উপজেলার তালমা হয়ে ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মিত হয়েছিল। ঐ বছরেই ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেলপথ খুলে দেওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে ফরিদপুরবাসীকে রেল সুবিধা দেওয়ার পর এই সেকশনটি মুখে থুবড়ে পড়েছিল। ১৯৯৮ সালের ১৫ই মার্চ অব্যবস্থাপনা ও লোকসানের কারণ দেখিয়ে সরকারি এক গেজেটের মাধ্যমে এই রেলপথ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এর কারণ ছিল, রেলপথটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং ব্যাপকহারে টিকিট ছাড়া (বিনা খরচে) যাত্রী ভ্রমণের কারণে ও স্থানীয় রেল কর্মকর্তাদের লাগামহীন দুর্নীতির ফলে রেলের অর্থব্যবস্থায় ধস নেমেছিল।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার কারণে সেকশনটি ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে এই রেলপথ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন কর্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর পরে ২০১৪ সালের ৭ই আগস্ট রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুর রুটে ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে এই রেলপথ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে এই সেকশন পদ্মা সেতুর নির্মাণাধীন রেলরুটের সাথে সংযুক্ত হয়েছে।

ফরিদপুর গোপালগঞ্জ রেল

বর্তমানে ফরিদপুর জেলা হয়ে ভাঙ্গা উপজেলা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী জেলাগুলোর মধ্যে ২টি ট্রেন ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ (লোকাল) প্রতিদিন ও ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’ (আন্তঃনগর) শুধু বৃহস্পতিবার বাদে বাকি ৬ দিন যাত্রী পরিবহন করছে।

গোপালগঞ্জে রেল যোগাযোগের শুরু

ব্রিটিশ শাসনামলে মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জ ছিল জলা এবং ডোবা অঞ্চল। অর্থনৈতিকভাবে বেশ অনুন্নত ছিল এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মানও খুব ভালো ছিল না। ব্যবসা-বাণিজ্যের সংস্থান ছিল না এবং বছরের অধিকাংশ সময় জমিতে পানি জমে থাকায় ফসলও চাহিদামতো উৎপাদিত হতো না। বছরের এক মৌসুমে ধান এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাট উৎপাদিত হতো। এছাড়া কিছু পরিমাণে আখ, তরমুজ, বাদাম, কাউন ইত্যাদির চাষাবাদ করা হতো। তবে এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেতো। ফরিদপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার পর গোপালগঞ্জ সেই জেলার একটি মহকুমা ছিল।

গোপালগঞ্জ জেলায় রেলপথ নির্মাণের জন্য এই অঞ্চলে উৎপাদিত পাটের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া যেহেতু গোপালগঞ্জের নিকটবর্তী অঞ্চলে রেলপথ নির্মিত হয়ে গেছিল, তাই খুব কম খরচে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা যেতো। সেজন্য ব্রিটিশ সরকার গোপালগঞ্জে রেল নিয়ে আসার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকলো। কোলকাতাগামী মূল সেকশন ব্রডগেজ রেলপথ হওয়ায় গোপালগঞ্জেও ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ১৯২৮ সালে জরিপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এরপর এই রেলপথ নির্মাণের কাজেও হাত দেয় ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি।

১৯৩২ সালেই জগতি-গোয়ালন্দ ঘাট রেল সেকশনের কালুখালী (রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত) জংশন থেকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী ও বোয়ালমারী উপজেলা হয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া ঘাট পর্যন্ত রেলপথ নির্মিত হয়েছিল। এই ব্রডগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। মধুখালী জংশন থেকে একটা শাখা লাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী ঘাট পর্যন্ত। কয়েক দশক বেশ ভালোভাবে ট্রেন চলাচলের পর ১৯৯৭ সালের ১৯শে আগস্ট অলাভজক ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথের অজুহাতে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ফরিদপুরের ন্যায় এই অঞ্চলেও টিকিট ছাড়া যাত্রী ভ্রমণ ও রেল কর্মকর্তাদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে রেলওয়ে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তেমনি সংস্কারের অভাবে রেলপথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।

২০১১ সালে ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৫ কিলোমিটার রেলপথটি পুনরায় সংস্কার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২রা নভেম্বর ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে এই রেলপথ পুনরায় উদ্বোধন করা হয়েছে।

এদিকে ২১১০ কোটি ৫৬ লক্ষ ব্যয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে কাশিয়ানী থেকে দিঘলিয়া ইউনিয়ন, গোপালগঞ্জ সদর হয়ে গোবরা ইউনিয়ন পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। ঐ বছরেই ১লা নভেম্বর গোপালগঞ্জ থেকে কালুখালী হয়ে রাজশাহী জেলা পর্যন্ত এই রুটে ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’ (আন্তঃনগর) চলাচলের মাধ্যমে রেলপথটি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ফরিদপুর গোপালগঞ্জ রেল

ব্রিটিশ শাসনামলে রেলপথ নির্মাণ সম্পন্ন হলে ফরিদপুর এবং গোপালগঞ্জ থেকে নিয়মিত গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করতো। গোয়ালন্দ থেকে ইস্ট বেঙ্গল এক্সপ্রেসে করে সরাসরি কোলকাতায় চলে যাওয়া যেতো। সেই সমযয়ে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা পাট ফরিদপুর থেকে ট্রেনে করে কোলকাতায় নিয়ে যাওয়া হতো। এই পাট দ্বারা হুগলি তীরবর্তী পাটকলগুলোতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়া সরাসরি শুকনো পাটও কোলকাতা বন্দর দিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হতো।

রেলপথ নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার চিত্র পাল্টে গিয়েছিল। সর্বক্ষেত্রেই আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছিল ও মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছিল। প্রায় ১২০ বছর আগে যখন মানুষ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, সেই সময়ে ট্রেনের মতো দ্রুতগামী বিস্ময়কর বাহন দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছিল। শতাব্দীর প্রাচীন কালো ধোঁয়া উড়ানো কয়লার ট্রেন বর্তমানে শুধুই একটি স্মৃতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here