বাজেটে কর ও ভ্যাটে ছাড় পেলেন ব্যবসায়ীরা

0
7
বাজেট কর

ব্যবসা ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সবগুলো খাতেই মহামারীর অভিঘাত লক্ষণীয়। এমন অবস্থায় সরকার আগামী অর্থবছরে (২০২১-২২) ব্যবসায়ীদের করের বোঝা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে এ ঘোষণাসংবলিত বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাবে কর্পোরেটসহ ব্যবসায়িক অনেক ক্ষেত্রে করের হার কমানোর ঘোষণা এসেছে। এর পাশাপাশি বাজেট প্রস্তাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া করোনা মহামারীতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

শুল্ক-কর ও ভ্যাট অপরিবর্তিত রেখে আগামী অর্থবছর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর কথা উল্লেখ না করলেও অনেকগুলোর দাম ঠিকই বেড়ে গেছে। এদিকে অধিক ব্যবহূত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি আমদানিতে রাজস্ব মওকুফ সুবিধা দিয়ে দাম কমানোর হয়েছে। এছাড়া এই বাজেট প্রস্তাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার বিশেষ সুযোগ নেই। তবে আগের মতো নির্ধারিত করের অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে তা বৈধ করার পদ্ধতি বহাল আছে।

এই বাজেটের শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’। বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর আয়োজিত প্রাক-বাজেট বৈঠকগুলোতে ব্যবসায়ীরা নতুন অর্থবছরে ভ্যাট ও শুল্ক-করে বড় ধরনের ছাড় চেয়েছেন এবং অনুরোধ করেছেন যাতে রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্প খাতগুলোর বাড়তি প্রণোদনা অব্যাহত থাকে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন কোনো প্রণোদনা না থাকলেও সরকার ভ্যাট ও করে ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য করোনার অভিঘাত মোকাবেলার কাজ সহজ করে দিতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন যে সংগত কারণেই আগামী বাজেটে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রাধিকার পেয়েছে। এবারে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষি খাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থানকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য বাজেটে দেশী শিল্পের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ আছে। বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পুনরুদ্ধারসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেরও প্রতিফলন আছে।

এনবিআর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, সরবরাহ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পুঁজিবাজারের তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করের হার ২.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট (৩২.৫% এর উপর) কমানো যেতে পারতো। এছাড়া নতুন বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা, কোম্পানি সম্প্রসারণ ও এফডিআই আকর্ষণের জন্যও এনবিআর কর্পোরেট করে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্পোরেট কর কমানোর দাবি উঠেছিল। এর আগে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬ বছর পর করের হার ২.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এই বাজেটে সরকার তা আরও ২.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর পরিকল্পনা করেছিল।

বিদ্যমান কর কাঠামো অনুযায়ী কর্পোরেট করের স্তর ৮টি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২৫%, তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিকে ৩২.৫%, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও ২০১৩ সালে অনুমোদিত হওয়া নতুন ব্যাংককে ৩৭.৫%, তালিকাবহির্ভূত ব্যাংককে ৪০%, মার্চেন্ট ব্যাংককে ৩৭.৫%, সিগারেট-জর্দা-গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে ৪৫%, তালিকাভুক্ত মোবাইল কোম্পানিকে ৪০% ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিকে ৪৫% ও লভ্যাংশ আয়ের উপর ২০% হারে কর্পোরেট কর দিতে হবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানকে ১০% ও ১২% এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানকে ১৫% হারে কর্পোরেট কর পরিশোধ করতে হবে।

এনবিআরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হালনাগাদকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ‘ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারধারী’ (টিআইএন) কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই রিটার্ন জমা দিচ্ছে। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) এ খাত থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে। এই হার কমানোর ফলে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব কিছুটা কমে গেলেও বিনিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে সরকার মনে করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেছেন যে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কর্পোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি বিধায় এটি কমাতে হবে। আগামী বাজেটে কমানোর যে উদ্যোগ, তা বেশ ইতিবাচক। এই ট্যাক্স কমলে ব্যবসায় কিছুটা গতি আসবে। তাঁরা চান যে যিনি কর দিচ্ছেন, তাঁর উপর যাতে আর কর চাপানো না হয়। তাঁরা সবসময়ই বলেছেন যে করের আওতা বাড়িয়ে করের হার কমাতে হবে।

এদিকে বিদ্যমান এই ভ্যাট আইনকে আরও ব্যবসাবান্ধব ও যুগোপযোগী করার জন্য আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর (এটি) এর হার কমানো হয়েছে। ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা ও সরল সুদ উভয়েই ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগাম করের হার ৪% থেকে নামিয়ে ৩% এ আনা হয়েছে। ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা ও সরল সুদের হার উভয়কেই বাণিজ্য সহায়ক করতে যৌক্তিক করা হয়েছে। ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ২গুণ জরিমানা আরোপের বিধান ছিল। আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ভ্যাট ফাঁকির সমপরিমাণ জরিমানার বিধান করা হয়েছে। এছাড়া সময়মতো ভ্যাট না দিলে ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২% হারে সরল সুদের বিধান ছিল। এই বাজেটে তা ১% করা হয়েছে।

বাজেটে বিভিন্ন হোম অ্যাপ্লায়েন্স সামগ্রী ও তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যকে আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে আরও উৎপাদনমুখী করতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কৃষি আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য সিগারেটে নকল, জাল ও পুনর্ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ব্যবহার বা ব্যবহারে সহায়তা করলে জেল ও জরিমানার নিয়ম করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্যাট বিভাগে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করে ‘ভ্যাট আইন’ সংশোধন করা হয়েছে। এই বাজেটে ভ্যাট আদায় বাড়াতে মূলত মনিটরিংয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

করোনা মহামারীর সময়ে পাইকারি ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবেশক, ব্যক্তিমালিকানাধীন (প্রোপ্রাইটরশীপ) প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিতে বাজেটে ন্যূনতম আয়করের হার কমানো হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক লেনদেনের উপর ন্যূনতম কর আরোপ করা হয়েছিল। তখন ব্যবসায় লাভ বা লোকসান যাই হোক, ব্যবসায়ীদেরকে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে যেসব ব্যবসায়ে বছরে ৩ কোটি টাকা বা এর বেশি পণ্য বিক্রয় হয়, তার উপর ০.৫% ন্যূনতম আয়কর আদায় করা হবে। তবে পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদন শুরুর পরবর্তী প্রথম ৩ বছরে ন্যূনতম করের হার ০.১% থাকছে। আগামী বাজেটে শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম করের হার ০.৫% থেকে কমিয়ে ০.২৫% করা হয়েছে।

বর্তমানে বার্ষিক ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারধারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এ টার্নওভারে ছাড় দেওয়া হয়েছে। নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এই সীমা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত করা হচ্ছে।

তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় আনতেও বাজেটে করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাজেট ঘোষণা কার্যকরের পরমুহূর্ত থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা অফিসে তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে চাকরি দিলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ করে ছাড় পাবে। এর আগে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধরনের সুবিধা দিয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়ম আছে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে মোট জনবলের ১০% প্রতিবন্ধী নিয়োগ দেওয়া হলে প্রদেয় করের উপর ৫% ছাড় দেয়া হবে। আগামী অর্থবছরে তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই রকম সুবিধা দেয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বছরের সম্পূর্ণ সময় মোট জনবলের ১০% বা শতাধিক তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদেরকে চাকরি দিলে প্রদেয় করের উপর ৫% রেয়াত পাবে।

আগামী বাজেট প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন যে পুঁজিবাজারের তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিগুলোর জন্য যে করের হার সেগুলো অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এক্ষেত্রে কমানো উচিত। তবে শুধু কর কমালেই যে বিনিয়োগ বেড়ে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যবসা সহজীকরণ সূচক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের সহজলভ্যতার বিষয়গুলোয় যেসব ঘাটতি আছে, সেগুলো না মিটালে বিনিয়োগ বাড়বে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এদেশে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য ১৬ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এই অর্থ আমদানি ও অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও ভর্তুকি বাবদ ব্যয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামীতে এই খাতে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বেড়েছে। সংগ্রহকৃত খাদ্যশস্যের বড় একটি অংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হবে। খাদ্য সংগ্রহ, পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়সহ আগামী বাজেটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ থাকছে ১৯ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে উন্নয়ন খাতে ৬৭৯ কোটি টাকা ও পরিচালন খাতে ২২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

আমদানি ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলতে আগামী অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ লক্ষ টন ধরা হয়েছে। এর মধ্যে চাল ও গম যথাক্রমে প্রায় ২৬ ও ৭ লক্ষ টন সংগ্রহ করা হবে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে খাদ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টন ধরা হয়েছিল।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি এই বাজেটের জিডিপির ৩%। চলতি বাজেটের আওতায় ৩০টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় মোট প্রায় ৮৬ লক্ষ উপকারভোগী উপকার গ্রহণ করছে। আগামী বাজেটে এই উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ‘বিশেষ সুযোগ’ থাকছে না। তবে আগের মতো নির্ধারিত করের অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার পদ্ধতি বহাল থাকবে। অর্থনীতিবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বাজেটে বিশেষ ‘সুযোগ হিসেবে’ ১০% কর দিয়ে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ, নগদ অর্থ, স্থায়ী আমানত, জমি-ফ্ল্যাট রিটার্নে দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৩০শে জুন পর্যন্ত এই সুযোগ থাকছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৮৩৩৩ জন অবৈধ অর্থ বৈধ করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে অবৈধ অর্থকে মূলধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসতে এক বছরের জন্য এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এর সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। কারণ দেশে ব্যক্তি শ্রেণীর সর্বোচ্চ করের হার ২৫%। এ সুযোগ অব্যাহত রাখা হলে করদাতারা নিয়মিত কর না দিয়ে তা লুকিয়ে রেখে পরবর্তীকালে কম হারে কর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এই পদ্ধতি চালু রাখলে সৎ ও নিয়মিত করদাতাদের নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিশেষ বিধান বাতিল করে আগের সব পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here