মিউকরমাইকোসিস বা কালো ছত্রাকের সংক্রমণ

0
6
মিউকরমাইকোসিস বা কালো ছত্রাকের সংক্রমণ

মিউকরমাইকোসিস যাকে বলা হচ্ছে কালো ছত্রাক। ভারতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত দেশটি। সুস্থ হয়ে ওঠা কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে এ ‘কালো ছত্রাকের’ সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে প্রকট আকারে। বিরল এ সংক্রমণে মৃত্যু হার ৫০ শতাংশের মতো। অনেক সময় আক্রান্তের প্রাণরক্ষায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখ বা চোয়ালের হাড় অপসারণের মত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে চিকিৎসা বিভাগ।

কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার ১২ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে সাধারণত এই কালো ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।  গত কয়েক মাসে দেশটিতে প্রায় নয় হাজারের মতো মানুষের দেহে প্রাণঘাতী ‘কালো ছত্রাক’ বা মিউকরমাইকোসিসের সন্ধান পেয়েছে সে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পড়ুন মিউকরমাইকোসিস বা কালো ছত্রাকের সংক্রমণ ।

মিউকরমাইকোসিস বা কালো ছত্রাক আসলে কি?

মিউকরমাইকোসিস একটি বিরল সংক্রমণ। মিউকর মোল্ডের সংস্পর্শে এলে এই সংক্রমণ ঘটে। মাটি, গাছপালা, বিষ্ঠা, এবং পচা ফল ও সবজি থেকে যে কেও মিউকর মোল্ডের সংস্পর্শে আসতে পারেন। মাটি ও বাতাস এবং এমনকি সুস্থ মানুষের নাকে বা কফেও এটা পাওয়া যায়।

সংক্রমিত ব্যাক্তিদের মাথা ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তা পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাকের চারপাশে চামড়ায় কালচে দাগ , মুখের একপাশ ফুলে যওয়া, চোখ ব্যথা করা বা ফুলে যাওয়া, চোখের পাপড়ি ঝরে পড়া, ঝাপসা দেখা এবং এক সময় দৃষ্টি হারানোর মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

সাইনাস, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে সরাসরি আক্রমণ করে এই ছত্রাক। ডায়াবেটিস, এইডস বা ক্যান্সারে যারা আক্রান্ত, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দারুণভাবে দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এ সংক্রমণ প্রাণঘাতি হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের এক রোগীর শরীরে মিউকরমাইকোসিস পাওয়া গেছে। ওই রোগী সাতক্ষীরা থেকে এসেছিলেন। বেশ আগে খুলনায় তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। যদিও এ রোগের উৎপত্তিস্থল ভারত তবে সাতক্ষীরার ওই ব্যক্তির ভারত ভ্রমণের ইতিহাস আছে তা জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here