রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানে বাইডেন প্রশাসন

0
3
বাইডেন রাশিয়া

বিশ্বের বৃহত্তম মিটপ্যাকার কোম্পানি জেবিএসে র‍্যানসমওয়্যার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জো বাইডেনের প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানে যাচ্ছে। সরাসরি ক্রেমলিনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হলেও সাইবার হামলার ঘটনা রাশিয়া থেকে পরিচালিত হওয়ায় ওয়াশিংটন মস্কোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে। র‍্যানসমওয়্যার হামলার ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কেমন কী হতে পারে – সেই বিষয়গুলো বাইডেন মূল্যায়ন করছেন। এছাড়া চলতি মাসে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে রুশ হ্যাকারদের নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের মাধ্যমে এমন তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন পিসাকি বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন দৃঢ়ভাবে মনে করছেন ঐ ধরনের হামলা পরিচালনা বা ঠেকানোর পিছনে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও রুশ সরকারের হাত থাকতে পারে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পরে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি মাইক্রোসফট জানিয়েছে যে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে রাশিয়া থেকে অসংখ্য সাইবার হামলার চেষ্টা হয়েছে। কলোনিয়াল পাইপলাইনে ভয়াবহ সাইবার হামলার পর সম্প্রতি জেবিএসে র‍্যানসমওয়্যার পরিচালিত হয়েছে। জেবিএস ব্রাজিলভিত্তিক কোম্পানি হলেও এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মার্কিন বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ আছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার টম বোসার্ট বলেছেন যে কলোনিয়াল পাইপলাইনে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হামলা চালালেও এজন্য রুশ সরকারকে বাইডেন প্রশাসন কিছুটা দায়ী করতে চায়, যা অনেক বড় অগ্রগতি।

কর্মকর্তারা বলছেন যে আগামী ১৬ই জুন বাইডেন ও পুতিনের মধ্যকার সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউজ সুস্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। কিছু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলছেন যে সাইবার হামলার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত কম্পিউটার সার্ভার অচল করে দেওয়া হতে পারে।

সাইবার অপরাধ কমাতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ব্যাপারে রাশিয়া গত মার্চে সম্মতি জানিয়েছিল। এতে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত কোনো সাইবার হামলা বা কোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিচালিত হামলায় জেনেশুনে সমর্থন জানাবে না।

ক্রেমলিন সমালোচক আলেক্সি নাভালনিকে আটক এবং ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি সেনা সমাবেশের কারণে বাইডেন রাশিয়ার সমালোচনা করে আসছেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে ন্যাটো মিত্র, ইইউর নেতা ও জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাইডেন প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগেই এ ব্যাপারে তারা যে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে। মস্কোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ঐকমত্য বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে যে তারা মস্কোর সঙ্গে সরাসরি কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকদের মতে, নিকট অতীতের অন্যান্য সময়ের চেয়ে হোয়াইট হাউজকে মস্কোর বিরুদ্ধে বেশ দৃঢ় অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে।

গত মাসে কলোনিয়াল পাইপলাইনে র‍্যানসমওয়্যার হামলার বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসন তেমন দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও অন্যান্য রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগের পর হোয়াইট হাউজ থেকে কঠিন এই পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কলোনিয়াল পাইপলাইনে র‍্যানসমওয়্যার হামলায় ডার্কসাইড নামে একটি গ্রুপ জড়িত ছিল, যাদের সাথে রুশ সম্পৃক্ততা আছে বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here