Trendshop নিয়ে সারিতার গল্প

0
689
Sarita Shetu

আপনাদের সাথে আজ বলবো আমার উদ্যক্তা হবার গল্প।
ছোট বেলা থেকেই আমি নিজের ড্রেস পছন্দ অনুযায়ী ডিজাইন করে পরতাম , আমার ড্রেস দেখে সবাই বন্ধু বান্ধবীরা আত্বীয়রা খুব পছন্দ করতো . প্রায়ই আমাকে অনেকেই উৎসাহ দিতো ড্রেস নিয়ে কাজ করার জন্যে । গতানুগতিক ধারার বাইরে যেয়ে পোষাক ডিজাইন করে পরার সখ আমার মত অনেক নারীরই আছে , কিন্তু সময় ও সামর্থের ভাবনায় সেটা সবাই করতে পারে না।

তাই লেখাপড়ার প্রায় শেষ পর্যায়ের এসে যখন বন্ধুরা প্রাইভেট জব খুঁজছিলো আমি তখনও কিছু একটা করতে চাইলাম , কিন্তু মানুষ কি বলবে , Feedback কেমন আসবে এই ভাবনায় পিছিয়ে গেলাম, এবং চাকরি শুরু করলাম । তারপরেই মনে হলো নিজের ভালোলাগার জিনিস নিয়েই আসলে কাজ করা উচিত । এতে কাজের প্রতি কখনই অনীহা আসে না।

২০১৮ এর শুরুর দিকের কথা,
আমার ইচ্ছা কে বাস্তবেও রুপ দিলাম , আর এই পুরো যাত্রায় আমার সাথে ছিলো আমার কাজিন লিজা মুমতাজ . যেহেতু ব্যবসায়ীক পরিবার থেকেই আমার জন্ম তাই রিস্ক নিতে ভয় পাই নি। পরিবারে কাউকে না জানিয়েই আমাদের ঈদ এর শপিং এর জমানো টাকা নিয়ে বের হলাম । ভেবেছিলাম প্রতিবারই তো নিজের জন্যে কিনি , এবার নিজের পছন্দ অন্যকে পরাবো।

আমি প্রথমে মাত্র ২২০০০ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করি !
আমার ব্যবসার প্রধান দিকটাই হলো কাসটমাইজ ডিজাইনার পোষাক ! অর্থাৎ প্রতিটা ড্রেসই আমার ডিজাইন করা এবং তৈরী করা ছিলো , যা একমাত্র Trendshop ছাড়া কোথাও পাওয়া যাবে না । তাই আমরা চাঁদনিচক , প্রিয়াংগন এবং পুরান ঢাকার ইসলামপুর থেকে ঘুরে ঘুরে অনেক কাপর , এবং ড্রেস ম্যাটারিয়াল কিনে আনলাম , তারপর ডিজাইন করলাম , কারিগর দিয়ে কাজ করালাম এবং চেষ্টা করেছিলাম একদম সর্বোচ্চ রিজেনাবল দামে ড্রেস তৈরি করতে ।টেকনোলজির সুবাদে খুব সহজেই ফেসবুকে পেজ খুলে ফেললাম , আর ড্রেসের ছবি আপলোড করলাম , বলে রাখি আমার সকল ড্রেস কাস্টমারকে বোঝানোর জন্যে নিজেরাই পরে ছবি দিতাম । এতে করে পরিচিত জনদের কাছেও খুব দ্রুত আমার পেজ এর নাম চলে যায় , যার সুবাদে আমার পেজ খোলার প্রথম ৩ মাসের মাথায় অন্য ড্রেসের সাথে সাথে ও শুধু একটা ডিজাইনের ড্রেসই ৩০ পিস বিক্রি হয়েছে । সাথে কাস্টমার দের রিভিউ ও খুব ভালো ছিলো । আর এতে আমার কাজ এর উপর আস্থা ও আগ্রহ বেড়েছে । তারপর থেকেই Trendshop এর পথচলা ।

ব্যাবসায় বাঁধা অবশ্যই ছিলো কিছু , প্রধান বাঁধা হলো এখনো আমাদের সমাজ নারীদের ব্যবসায় আসা টা স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেনা । আমি যখনই কোনো বিক্রেতার থেকে অনেক বেশি পরিমানে কাপর কিনতাম , সে আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়েই বলতো “আপনি কি ব্যাবসায় করেন নাকি ?” প্রথম দিকে একটু খারাপ তো লাগতো, আবার পরিচিত জনদের মধ্যেও অনেকে বলতো “তোমার তো টাকার এতো দরকার নাই, তাহলে এই অনলাইন বিজনেস করো কেনো “
সত্যি কথা বলতে কখনোই মানুষ কি ভাববে সেটা না ভেবে নিজের কাছে যেটা সৎ ও সঠিক লাগবে তাই করা উচিত ।

আমার কাছে ব্যাবসায় শুরু করার প্রধান লক্ষ্যই ছিলো নিজের দক্ষতার যায়গাটাকে একটা পরিচিতি দেয়া , কাজে সততা আর নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে মুনাফা আসবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here