স্বাস্থ্য খাতে বাজেট ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
10
স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন যে বিভিন্ন রাষ্ট্র যুদ্ধ ও মানুষ হত্যার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, কিন্তু চিকিৎসা সেবায় তেমন গুরুত্ব দেয় নি। এমনকি স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করার কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাও নেয় নি। এবারের করোনা মহামারীতে পুরো বিশ্ব বুঝতে পেরেছে যে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ অনেক জরুরী। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া পৃথিবীতে মানুষ বেশি দিন টিকতে পারবে না। এদেশেও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাজেট অনেক কম। এ খাতে বাজেট ও বিনিয়োগ ২টিই বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে রবিবার (২রা মে) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। অনলাইন জুম অ্যাপের মাধ্যমে সারা দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এতে যুক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেছেন যে প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনা ভাইরাস ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। সেখান থেকে এই ভাইরাস এদেশেও চলে আসতে পারে। এ কারণে আগামীতে স্বাস্থ্য খাতের সব পর্যায়ের কর্মীদেরকে সতর্কতার সাথে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। এদেশে করোনার প্রথম ঢেউ সফলভাবে সামলানো হয়েছে। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানতে ব্যাপক অনীহা ও অবহেলার কারণে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে, যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। তবে প্রথম ঢেউয়ের পর যেভাবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীন হয়েছিল, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে খুব দ্রুতই দেশে তৃতীয় ঢেউ চলে আসবে। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে ও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আলী নূর, ‘স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ’ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ, ‘বিএমএ’ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কমিউনিটি ক্লিনিকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। বক্তারা বলেছেন যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অধিদপ্তর এই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর প্রথম মহাপরিচালক এবং সচিব ছিলেন চিকিৎসক। ঐ সময় স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নতি ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে স্বাস্থ্য সচিবের এই পদ প্রশাসনে চলে যায়। তাঁরা এই পদটিতে চিকিৎসক নিয়োগসহ পৃথক স্বাস্থ্য ক্যাডার গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা বাড়াতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here