সড়ক নির্মাণ এর জন্য প্লাবন ভূমি ভরাট কক্সবাজারে

0
28
সড়ক নির্মাণ এর জন্য প্লাবন ভূমি ভরাট কক্সবাজারে

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত হিসেবে কক্সবাজার এর পরিচিতি। কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে নির্মাণ করা হচ্ছে সম্পূর্ণ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।আর এই কেন্দ্রটিতে যাতায়াতের জন্য আলাদা নির্মাণ করা হচ্ছে সংযোগ সড়ক। 

কিন্তু,অভিযোগ উঠেছে,উপকূলীয় কুহেলিকা নদীর প্লাবনভূমির ওপর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে ।আর এই কারণে ,নদীর পানি প্রবাহ অস্বাভাবিক হয়ে উঠবে,এর পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পরিবেশ অধিদপ্তর।আর এই জন্য সড়কটি নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগেডিও লেটারপাঠিয়ে কাজ বন্ধও করে দেয়া হয়। তবে গত বুধবার থেকে ফের সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করেছে সড়ক জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। বর্তমানে সরকারের অন্যতম প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছে, মাতারবাড়ী কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যা সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প গুলোর মধ্যে একটি। 

জাপানী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে, এর পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাতায়াত সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে পৃথকভাবে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সওজ অধিদপ্তর। প্রকল্পে  দশমিক ৪৮ কিলোমিটার চার লেনের নতুন সড়ক তৈরী এবং দশমিক শূন্য কিলোমিটার পুরাতন সড়ক পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এছাড়াও কুহেলিকা নদীর ওপরে ৬৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুও নির্মাণ করা হচ্ছে। মাতারবাড়ী কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হচ্ছে ৬৫৯ কোটি টাকা যার মধ্যে ৫০৪ কোটি টাকার সহায়তা দিচ্ছে জাইকা এবং ১৫৫ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

 ২০২২ সালের জুন মাসের ভিতর সম্পূর্ণ প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সাথে নতুন করে যে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তার সাড়ে ছয় কিলোমিটার থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার অংশটি নিয়েই বিপত্তি বেঁধেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, অংশটি কুহেলিকা নদীর প্লাবনভূমি। সেখানে জোয়ারের পানি উঠে প্লাবিত হয়। প্লাবনভূমির ওপর সড়ক নির্মাণ করায় নদীর প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি সেখানকার জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি উল্লেখ করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে একটি ডিও লেটার পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংযোগ সড়কটির নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে সওজ অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, নদীর যে পাশে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তার অন্য পাশে ড্রেজিং করে কুহেলিকা নদীর প্রশস্ততা বাড়ানো হবে এবং নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা হবে।

 তবে সওজ অধিদপ্তরের দাবি নিয়েও আপত্তি তুলেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সংস্থটি বলছে, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছিল সওজ অধিদপ্তর। ওই সময় নদীর পাশে প্লাবনভূমি ভরাটের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। পরে পুরোপুরি অনুমোদিতভাবে সেখানে ভরাটের কাজ করেছে সওজ অধিদপ্তর। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সওজ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সড়কের নির্মাণকাজটি বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়া হয়। সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা হওয়ার আগ পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here