১লা জুলাই থেকে অবৈধ মুঠোফোন বন্ধঃ ‘বিটিআরসি’

0
6
অবৈধ মুঠোফোন

আগামী ১লা জুলাই থেকে বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে অবৈধ মুঠোফোন বন্ধের প্রযুক্তি। অবৈধভাবে আমদানি করা মুঠোফোন যাতে চালু করা না যায় সেজন্যই ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নামের এ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এদিকে বিটিআরসি গ্রাহকের হাতে থাকা অবৈধ মুঠোফোনকে সময় দেবে।

মঙ্গলবার (১লা জুন) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে জানান, “এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি আমরা ১লা জুলাই থেকে নিচ্ছি। অবৈধ মুঠোফোন ব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যেই মূলত এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।”

বিটিআরসি এর চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার আরও জানান, “এমনভাবে ব্যবস্থাটি আমাদের
চালু করতে হবে যাতে গ্রাহকদের ওপরে কোন প্রকার চাপ না আসে।”

বিদেশ থেকে আগত মানুষ মুঠোফোন কিনে আনতে পারবে। এছাড়াও উপহার হিসেবে কিংবা কাউকে উপহার দিবার উদ্দেশ্যেও আনতে পারবে। তবে পরিমাণে বেশি আনলে সরকারকে কর দিতে হবে বলেও বিষয়টি অবগত করেন তিনি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিটিআরসি মোবাইল ফোন গুলোর বৈধতা ও অবৈধতা যাচাই করতে, এনইআইআর নামের এ ব্যবস্থাটি চালু করে বিটিআরসি এবং এটি পরিচালনার জন্য আহ্বান করে দরপত্রের। এছাড়াও গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রযুক্তিগত সমাধান পাবার উদ্দেশ্যে সংস্থাটি সিনেসিস আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে।

দেশে বৈধভাবে আমদানি ও উৎপাদিত মুঠোফোনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু হওয়া ফোনের আইএমইআই (মুঠোফোন শনাক্তকরণ নম্বর) মিলিয়ে দেখা হবে এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে। নকল, অবৈধ কিংবা চুরি যাওয়া মুঠোফোন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু করা যাবে না।

বাংলাদেশে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্মার্টফোন অবৈধভাবে আমদানি করা হয় বলে জানা গিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে। সুতরাং এ কারণেই কমপক্ষে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার।

কোনটা বৈধ ফোন আর কোনটা অবৈধ ফোন সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অবগত নয়। ফোনগুলো কীভাবে যাচাই করতে হবে সেটাও তারা জানে না। সেজন্য বিটিআরসিকে প্রথমে এই বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। কথাগুলো বলেছেন, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি আরও জানান, বিদেশ থেকে একটি মোবাইল ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ কর দিতে হয়। এদিকে কিছু ফোন দেশে উৎপাদিত হলেও মোবাইল ফোনের দাম তেমন একটা কমে নি। আর সেকারণেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট গ্রাহকের মাত্র ৪০ শতাংশ। দাম না কমার ফলে ৪০ শতাংশের বেশি গ্রাহক এখনও পর্যন্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে না। মোবাইল ফোন সেটের দাম যাতে মানুষের নাগালের ভিতরে আনা যায়, সরকারকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতেও এটা নিয়ে কাজ করতে হবে।

গত মার্চ মাসে মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ ‘মোবাইলনির্ভর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশি মুঠোফোন ব্যবহারকারী ৪১ শতাংশের হাতে রয়েছে স্মার্টফোন। ব্যবহারকারীর এই হার শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভারত এমনকি নেপালের চেয়েও কম। স্মার্টফোনে উচ্চ হারে করই বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ।

নতুন সিস্টেম এর সাথে অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তরঃ

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের বিষয়ে বিটিআরসির কর্মকর্তারা কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। সেই প্রশ্ন ও উত্তর পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন-১
গ্রাহক কীভাবে এনইআইআর সিস্টেমটির সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন,অর্থাৎ এই সিস্টেমটি কিভাবে পরিচালিত হবে?

উত্তরঃ প্রত্যেক মোবাইল ফোন অপারেটরের নিজ নিজ এনআইআরের সাথে এনইআইআর সিস্টেমটি সরাসরিভাবে সংযুক্ত থাকবে। গ্রাহকদের মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে ব্যবহারের উপযোগী হবে। সব মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই করার মাধ্যমে এনইআইআর তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করবে মোবাইল ফোনটি বৈধ না অবৈধ।
ফোন কেনার পর এটি যাচাই করতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন-২
মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে অর্থাৎ এসএমএস এর মাধ্যমে অনেক সময় আইএমইআই সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না, এ বিষয়ে কী করণীয়?

উত্তরঃ অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে এমন মোবাইল ফোন এবং বিটিআরসির তালিকাভুক্ত আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারক যেগুলোর আইএমইআই নম্বর সংযোজন করেন নি, সেগুলোর আইএমইআই নম্বর এই তথ্য ভান্ডার থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া তথ্যভান্ডার চালু হয়েছে ২০১৯ সালের ১লা আগস্ট। সেজন্য এর পূর্বের মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর তথ্য ভান্ডারে নেই।

প্রশ্ন-৩
ব্যক্তিগতভাবে কারও জন্য উপহার হিসেবে বা অনলাইনে ক্রয় করা মোবাইল বাইরের দেশ থেকে নিয়ে আসলে সেসকল ফোনের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে মোবাইল ফোন কেনার রসিদ যাচাই করে নিবন্ধন করতে দেওয়া হবে। সেজন্য গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এনইআইআর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই নিবন্ধন কার্যটি সম্পাদন হবে।

এছাড়াও বাইরের দেশ থেকে উপহার পাওয়ার ক্ষেত্রে এর যথেষ্ট প্রমাণাদি দেখাতে হবে। পাশাপাশি একই ব্যক্তি বারবার উপহার দিচ্ছেন এরকম কোন তথ্য দেখানো যাবে না।

প্রশ্ন-৪
মোবাইল ফোনের বৈধতা কিংবা অবৈধতার বিষয়টি যাচাই করার পদ্ধতি কী?

উত্তরঃ মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাইয়ের পদ্ধতি হলো- মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘কেওয়াইডি’ স্পেস ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে। এরপর খুদে বার্তা বা ফিরতি মেসেজেই বৈধ না অবৈধ এ বিষয়ে জানা যাবে। মোবাইল ফোনের মোড়কে বা স্টিকারে আইএমইআই নম্বরটি থাকে। এছাড়াও *#০৬# ডায়াল করে আইএমইআই নম্বর জানা যাবে।

প্রশ্ন-৫
এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে, পূর্বে থেকে বাজারে যে মোবাইল ফোন গুলো রয়েছে কিংবা সাধারণ গ্রাহক যে সেটগুলো ব্যবহার করছেন, সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে?

উত্তরঃ বিটিআরসির কাছে ২০১৯ সালের ১লা আগস্টের পূর্বে মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত অথবা দেশে উৎপাদিত অথবা উক্ত সময়ের পরে বৈধ পথে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলোর বাইরে কোনো অবৈধ মুঠোফোন থেকে গেলে সেগুলোকে ধাপে ধাপে বন্ধের ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এরকম সেটগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াই হলো এখন পর্যন্ত কমিশনের চিন্তা।

প্রশ্ন-৬
বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবহৃত হওয়া একই আইএমইআই নম্বরের নকল মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে?

উত্তরঃ এসকল মোবাইল ফোনের একটি তালিকা তৈরি করে এর ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। এছাড়া পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here